ভালোবাসার প্রতিদান স্বরুপ নীলফামারীর ডোমারে মাথার দুই পাশে চুল কেটে মোটরসাইকেল প্রতিক এঁকেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক সমর্থক। এতে সত্যেন নামের ঐ সমর্থকের ব্যয় হয়েছে ৮২৫ টাকা।
নিজের কাজ বন্ধ রেখে প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। চুল কেটে রঙ দিয়ে প্রতিক বানানোর এই ঘটনায় আলোচনা শুরু হয়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন জুড়ে। ডোমার উপজেলার এই ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ই জানুয়ারী।
চুল কেটে মোটরসাইকেল প্রতিক বানানো সমর্থকের নাম সত্যেন্দ্র নাথ রায়। তার বাড়ি ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামে। ডিসেম্বর রায়ের ছেলে তিনি। চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ পারভেজ উজ্জলের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করছেন সত্যেন। তার আশা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী।
সত্যেন বলেন, ফিরোজ দাদাকে আমি অত্যন্ত পছন্দ করি। তাকে আমি ভোটতো দিবোই পাশাপাশি ভোট সংগ্রহের কাজ করার উদ্যোগ নেই। এরই মাঝে চিন্তা করলাম বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে পছন্দের প্রার্থীর জন্য এগিয়ে আসছেন। আমিও ব্যতিক্রমী চিন্তা নিয়ে প্রচারণার উদ্যোগ নিলাম। সেলুনে গিয়ে চুল কেটে মোটর সাইকেল বানিয়ে প্রচারণা শুরু করলাম। মানুষজন দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং ভোট চাওয়ার কৌশল হিসেবেও এটি কাজে লাগালাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি পেশায় একজন রডমিস্ত্রি। প্রতিক বরাদ্দ হওয়ার পর থেকে নিজের কাজ বন্ধ রেখে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল ইসলাম জানান, অনেক জনপ্রিয় উজ্জল ভাই তার অনেক ভক্ত রয়েছে। শুধু ইউনিয়ন নয় গোটা উপজেলা জুড়ে তার নাম-ডাক রয়েছে। আসছে নির্বাচনে উজ্জল মোটরসাইকেল প্রতিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ পারভেজ উজ্জল জানান, দেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রাম থেকে কেউ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হননি। বেতগাড়া, মির্জাগঞ্জ ও জোড়াবাড়ী গ্রাম থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। যার কারণে এবার গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার জন্য। এই এলাকার অনেকে অনেক ভাবে আমার হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তারমধ্যে সত্যেন একজন। সে মাথার চুল কেটে মোটরসাইকেল প্রতিক এঁকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার ভালোবাসায় আমি সিক্ত। নিশ্চয়ই তার প্রতিদান হলহলিয়াবাসী এবারের নির্বাচনে পাবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, একজনের প্রতি ভালোলাগা, ভালোবাসা থেকে এমন বহিঃপ্রকাশ করতেই পারে। এটি নির্বাচন আচরণ বিধিতে পড়ে না। হয়তো চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রতি আবেগ প্রকাশ করে ওই সমর্থক এটি করেছেন। জোড়াবাড়ী ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৮৮৫জন। এছাড়া ছয় জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।








মন্তব্য