ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে স্থল ও বিমান হামলায় ৩৭৮ হুতি যোদ্ধা নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সরকারপন্থি বাহিনী। তাইজের সামরিক কমান্ডের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আল-মিসরাখ জেলা, আল-শাকাব রণাঙ্গন এবং তাইজ শহরের আশপাশে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে নয়টি হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলা ও সংঘর্ষে ১৬৮ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং ২১০ জন আহত হয়েছেন। প্রদেশটির পশ্চিমাঞ্চলেও লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত তাইজ শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকণ্ঠে শুক্রবারও সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ চলেছে। গত ৪৮ ঘণ্টার লড়াই ও বিমান হামলায় উভয় পক্ষের বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই হুতি যোদ্ধা বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটির দক্ষিণে সাবর আল-মাওয়াদিম জেলার বিভিন্ন স্থানে এখনো লড়াই চলছে। একই সময়ে ওই জেলার কয়েকটি গ্রামের বহু বাড়িতে হুতি যোদ্ধারা হামলা চালিয়ে প্রবেশ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দেশটিতে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এডেনকে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে অস্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করছে ইয়েমেনের সরকার।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইয়েমেনের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, হুতিরা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন, তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন।
এএফপির এক সংবাদদাতা এডেনে প্রাসাদ এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন এবং প্রাসাদ চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা








মন্তব্য