পশু জবাই নিয়ে প্রক্টরের আহ্বানে ভুল বোঝাবুঝির জন্য জবি প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ
ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের এখতিয়ার সবার আছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রশাসন
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন আলোচনা ও বিভ্রান্তি দূর করতে প্রশাসন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক গণমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিতে অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, প্রক্টরের আহ্বানের ফলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, যার জন্য প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর রাতে জবি ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। দায়িত্বরত প্রক্টরের উদ্যোগে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই সমাধান করা হয়। ঘটনার পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে মীমাংসা হয়।
১৪ অক্টোবর কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শোকজ করার যে অভিযোগ ওঠে, তা ভিত্তিহীন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থী ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। বিষয়টি প্রক্টরের নজরে এলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনা করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতে তিনি সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। দুই দিন আগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না হয়, সে জন্যই প্রক্টর এ আহ্বান জানান। তবে এতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান হলো, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের এখতিয়ার সবারই আছে। তবে একটি উদযাপন যেন অন্য কোনো উদযাপনের পথে বাধা না হয়, সে বিষয়ে সবারই সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।