বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বিরুদ্ধে ব্যাংককে বিক্ষোভ, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা চান আন্দোলনকারীরা
ঋণ, দারিদ্র্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দুই দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে দ্য পিপলস নেটওয়ার্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা উপলক্ষে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দারিদ্র্য, বাড়তে থাকা পারিবারিক ঋণ, পরিবেশের ক্ষতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাঁরা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটির নীতির সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ঋণ আলোচনায় স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলার সময় কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে নিজেদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করেন। প্রতীকী ভাসমান কাঠামো ও বিশ্বনেতাদের মুখোশ ব্যবহার করে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। এ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সামান্য ধস্তাধস্তিও হয়। তবে বিক্ষোভের সামগ্রিক পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ‘দ্য পিপলস নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক অ্যান্ড আইএমএফ’ নামের একটি সংগঠন দুই দিনের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। সংগঠনটির ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যাংককের রাচাদাফিসেক সড়কে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা শুরুতে কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভাস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ পথ আটকে দিলে তাঁরা রাচাদাফিসেক সড়কে অবস্থান নেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সরকারের আলোচনা কেবল ঋণ নেওয়া বা অর্থায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব আলোচনা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির প্রতিনিধি সুপাপর্ন মালাইলোয় সরকারের কাছে উন্নয়ন নীতিমালার একটি স্পষ্ট কাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছেন। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ঠিক করার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ কীভাবে অংশ নিতে পারবেন, তা পরিষ্কার করারও আহ্বান জানান তিনি।
সুপাপর্নের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চুক্তি কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানুষের সামাজিক সুরক্ষার অধিকার খর্ব করা, পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা দুর্বল করা কিংবা মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করা উচিত নয়।
তাঁর অভিযোগ, দেশের উন্নয়নের ধরন ও দিক ঠিক করতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সরকারের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এসব অগ্রাধিকার নির্ধারণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব বহন করতে হতে পারে।
আন্দোলনকারীদের আপত্তির কেন্দ্রে আছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ননীতি ও তার সামাজিক প্রভাব। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবারের বিক্ষোভে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের পাশাপাশি পরিবারের ঋণের বোঝা এবং জলবায়ুজনিত দুর্ভোগের বিষয়ও উঠে আসে। এসব সমস্যার দায় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের অর্থনৈতিক নীতির ওপর চাপান আন্দোলনকারীরা। তবে এসব অভিযোগ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট নীতি ও প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে আলাদা তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংককের কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন অংশীদারেরা অংশ নিচ্ছেন।
বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যেই উন্নয়ন-সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনগণের মতামতের গুরুত্ব সামনে এনেছেন বিক্ষোভকারীরা।