৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৪ প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তির দাবি
শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে শাহবাগের জুলাই চত্বরে ‘আত্মাহুতি’ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
শিক্ষা ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
৪৫তম বিসিএসে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৪ প্রার্থী তাঁদের গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে শাহবাগের জুলাই চত্বরে ‘আত্মাহুতি’ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রার্থীরা এ দাবি তোলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৪৫তম বিসিএসের সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও তাঁদের গেজেটে রাখা হয়নি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে, যাতে ১ হাজার ৭০২ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। তবে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও ৫৪ জন গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে তাঁদের দাবি।
গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, বাদ পড়াদের বড় একটি অংশ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের অভিযোগ নেই বলেও তাঁরা দাবি করেন। গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ সম্পর্কে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নূরে আলম। তিনি ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত এবং ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে তাঁরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথা বললেও তাঁদের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
নূরে আলম বলেন, পিএসসির সব ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ৪৫তম বিসিএসের গেজেটে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের কোনো প্রমাণ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। ৪৫তম বিসিএসে যোগ্য না হলে তিনি কীভাবে ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে শাহবাগের জুলাই চত্বরে আত্মাহুতির মতো কঠোর কর্মসূচি পালনে তাঁরা বাধ্য হবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী একরাম গাজী হৃদয়ও বক্তব্য দেন। তিনি ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, উপস্থিত প্রার্থীদের কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেই। তাঁরা কেউ দেশদ্রোহী বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও তিনি দাবি করেন।
একরাম গাজী হৃদয় বলেন, ‘যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই, তাদের সবাইকে অনতিবিলম্বে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কারণে কাউকে গেজেটবঞ্চিত করা হবে না। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার তরুণদের সঙ্গে এমন অন্যায় করতে না পারে।’
বিজ্ঞাপন
অন্য বক্তারা বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে বৈষম্যহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা থাকলেও চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর গেজেট থেকে বাদ পড়ায় তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থার অবসানে দ্রুত তাঁদের গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা আরও বলেন, ৪৯তম বিসিএসে প্রাথমিকভাবে বাদ পড়া প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের উদ্যোগে সম্পূরক গেজেটের মাধ্যমে ৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয় বিবেচনা করে আবার গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নিতে তাঁরা আহ্বান জানান।