তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা আগের নিয়োগ কমিটি রেখেই আজ বিকেলে, প্রতিবেদনের জন্য আরও দুই দিন চেয়েছে কমিটি
শিক্ষা ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ছাড়াই নিতে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের এ পরীক্ষা হওয়ার কথা। অথচ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে আরও দুই দিন সময় চেয়েছে। আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিদপ্তর। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশ্নফাঁস চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিশদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঠিক করা এবং আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে নিয়োগ কমিটি নতুন করে গঠন করা দরকার ছিল।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই নিয়োগ কমিটিকে সরাসরি দায়ী করা যায় না। তিনি জানান, নতুন নিয়োগ কমিটি গঠনের এখতিয়ারও অধিদপ্তরের নেই।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানের নেতৃত্বে গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্তের কিছু কাজ বাকি থাকায় কমিটি আরও দুই দিন সময় চেয়েছে। কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ১০ অক্টোবর সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। সেদিন সকাল ১১টায় ঢাকার ৯৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়। এরপর অধিদপ্তর পরীক্ষা স্থগিত করে।