আগামী জুনে সিএনএন ছাড়ছেন সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর
দীর্ঘ ৪৩ বছরের কর্মজীবনের ইতি টেনে নতুন কাজের অপেক্ষায় প্রখ্যাত এই সাংবাদিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রধান আন্তর্জাতিক উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুনে তিনি এই গণমাধ্যম থেকে বিদায় নিচ্ছেন। ৬৮ বছর বয়সী এই খ্যাতিমান সাংবাদিক জানান, দীর্ঘ ৪৩ বছর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি নতুন পথে পা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
নিজের বিবৃতিতে আমানপুর উল্লেখ করেন, ‘মাসের পর মাস ভেবেচিন্তে এবং বেশ কয়েকটি নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমি সিএনএন থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুর্দান্ত এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার ৪৩ বছরের অংশীদারত্ব ছিল!’ তিনি জানান, আগামী জুন পর্যন্ত তিনি বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও সংবাদ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবেন।
আমানপুর ২০০৯ সাল থেকে সিএনএন ইন্টারন্যাশনালে নিজের নামের একটি রাত্রিকালীন সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠানটি সপ্তাহে কয়েক দিনে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে একদিনে নামিয়ে আনা হয়। আগামী মে মাসে এর সম্প্রচার পুরোপুরি শেষ হবে। পাশাপাশি পিবিএসে প্রচারিত তার অনুষ্ঠান ‘আমানপুর অ্যান্ড কোম্পানি’ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। তিনি জানান, সাবেক স্বামী জেমি রুবিনের সঙ্গে গ্লোবালের প্রযোজনায় ‘দ্য এক্স ফাইলস’ পডকাস্টটি তিনি চালিয়ে যাবেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমানপুর বলেন, তিনি ‘ভবিষ্যতে নতুন ও আকর্ষণীয় সব কাজের অপেক্ষায় আছেন।’ তিনি সিএনএনের স্বাধীন সাংবাদিকতার ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মনে রাখবেন: সব সময় নিরপেক্ষ না থেকে সত্যবাদী হোন।’
সিএনএনের চেয়ারম্যান মার্ক থম্পসন সোমবার সকালে সহকর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, গত কয়েক মাস ধরে আমানপুরের সঙ্গে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আমানপুরকে ‘বিশ্বের অন্যতম বিশ্বস্ত ও প্রিয় সাংবাদিক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তার চলে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। আগামী বছর তার বিদায়ের আগে সিএনএন তার বর্ণিল ক্যারিয়ার উদ্যাপনে বিশেষ আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন থম্পসন।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে আমানপুর জানান, তিনি তার সহকর্মী ও কলাকুশলীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম রোমাঞ্চকর অ্যাসাইনমেন্ট প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ কভার করা থেকে শুরু করে বসনিয়ার যুদ্ধের ভয়াবহতা, রুয়ান্ডা, আফগানিস্তান, ইউক্রেন এবং ইরান—সব জায়গার কথাই আমার মনে পড়বে। সত্য, প্রমাণ ও মানবতার সন্ধানে আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি; আর সে কারণেই এই টিমগুলো এবং আমাদের পারস্পরিক সখ্যই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান ছিল। এর মাধ্যমে সিএনএন বিশ্বজুড়ে নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রচার করতে পেরেছে।’