ইসিমুখী বিক্ষোভে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে পুলিশের ধরপাকড়, অনেকে গরহাজির
বহু শাখা সংগঠন ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে শতাধিক গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
শুক্রবার বিকেলে দিল্লিতে ‘পিপলস মার্চ’ নামে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েক শ মানুষ অংশগ্রহণ করে। আয়োজকরা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তারা পুলিশের অনুমতি নেবে না এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করবে, নির্বাচন কমিশনের দিকে যাবে এবং বাধা দিলে রাস্তায় বসে পড়বে।
বিজ্ঞাপন
প্রারম্ভিক পর্যায়ে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতি কিছুটা নরম মনোভাব দেখায়, কিছুজনকে নির্বাচন কমিশনের দিকে হাঁটতে দিয়ে। লাউডস্পিকারে সতর্কতা জানার পর গ্রেপ্তার শুরু হয়, তবে কোনো হাতাহাতি বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি।
বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল কনট প্লেসের কাছে বাংলা সাহেব গুরুদ্বারের সামনে জড়ো হওয়া এবং এরপর এক কিলোমিটারের দূরে থাকা নির্বাচন কমিশনের দিকে অগ্রসর হওয়া। আধা সামরিক বাহিনী, র্যাফ ও নারী পুলিশ, পাশাপাশি জলকামানের গাড়ি প্রস্তুত রাখা সত্ত্বেও পুলিশকে কোনো বলপ্রয়োগ করতে হয় না, এবং ব্যারিকেডে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা থেমে যায়।
বাম, কৃষক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমর্থনে আজকের সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আয়োজকরা ‘ইন্ডিয়া’ জোট, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে, আইসা নেত্রী নেহা বোরাসহ ‘সব গণতন্ত্রী’ জনতাকে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের অর্থনীতিবিদ স্বামী পরকলা প্রভাকরও জানিয়ে দিয়েছেন যে জ্ঞানেশ হটাও অভিযানে তিনি অংশ নেবেন, তবে বাস্তবে সিপিএমের বৃন্দা কারাত, সিপিআইয়ের অ্যানি রাজা, আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, অঞ্জলি ভরদ্বাজের সঙ্গে যুক্ত কিষান মোর্চা ও যুব ছাত্র সমাজের সহস্রাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন পোস্টার ও ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ স্লোগানসহ বিক্ষোভকারীরা মন্দির মার্গের সামনে গোল ডাকখানার কাছে জড়ো হয় এবং অশোক রোডের দিকে অগ্রসর হয়। রায়ট পুলিশও বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে; লাউডস্পিকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে গ্রেপ্তার গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভকারীরা পূর্বে ঘোষিতভাবে রাস্তায় বসে পড়ে এবং তারা বলেন যে আন্দোলনের লক্ষ্য যন্ত্রপাতি পুনরুদ্ধার নয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। অপেক্ষমাণ বাস ও পুলিশের ভ্যানে বিক্ষোভকারীদের তুলে নেওয়া হয়, এবং সন্ধ্যায় সূত্রে বলা হয় যে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভের সময়ে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডের উপস্থিতি মন্দির মার্গ পুলিশ স্টেশনে দেখা যায়। তিহার জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরের দিন তাদের দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তবে তারা বৃহস্পতিবার না গিয়ে শুক্রবার সময় চেয়ে অপেক্ষা করায় শেষ পর্যন্ত না পৌঁছায়।
কয়েক দিন আগে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপ সমর্থকদের জানায় যে উৎসবের মৌসুমে তারা পরিবারে থাকুক এবং দীপাবলি পর্যন্ত নতুন কোনো আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা না করা হবে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় তারকা প্রকাশ রাজ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকর, কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও ছাত্রনেতা ঐশী ঘোষের অংশগ্রহণের কথা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তারা গরহাজি করা অবস্থায় দেখা যায়।
তামিলনাড়ুর এসআইআর বিষয়ে সমসাময়িক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অর্চনা পট্টনায়ক উপস্থিত ছিলেন; তবে শাসক টিভিকে ও তার জোট সঙ্গীদের পাশাপাশি বিরোধী ডিএমকের প্রতিনিধিরাও ওয়াক‑আউট করেন এবং তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়।
কয়েক দিন আগে তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেছে। বিজেপি ত্যাগ করা সাবেক সভাপতি আন্নামালাইও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি করে নতুন দল ‘উই দ্য লিডার্স’ গঠন করে, যা ককরোচদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সমর্থন করে।
টিভিকে মন্ত্রিসভার সদস্য নির্মল কুমার জানায় যে তারা প্রাথমিক থেকেই এসআইআর‑এর বিরোধিতা করেছেন; অন্যথায় টিভিকে ১৬০টি আসনে জয়ী হতো। তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪টি আসন, যার মধ্যে টিভিকে ১০৮টি জিতেছে।