কক্সবাজারে ৫০-৬০ যানবাহনে ডাকাতি, ১০-১২ সদস্যের দল
একই দিনে দুই দফা ঘটেছে, হিমছড়ি ঢালায় সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল জিম্মি করা হয়েছে
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি · কক্সবাজার
প্রকাশ:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও‑ঈদগড় সড়কে সোমবার দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে হিমছড়ি ঢালায় মুখোশধারী ১০‑১২ জনের সশস্ত্র দল ৫০‑৬০টি যানবাহন, অধিকাংশই সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল জিম্মি করে, নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিস লুট করেছে।
বিজ্ঞাপন
শতাধিক যাত্রীর থেকে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার পরে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনো দোষী গ্রেফতার করা যায়নি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, লুটের সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না এবং ডাকাতদের জঙ্গলে আত্মগোপন করার সুযোগ পেয়েছে।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। পুলিশ একাধিক দলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আটক হয়নি। তিনি যোগ করেন, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও‑ঈদগড়‑বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে।
একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ও একজন সহচর মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন এবং সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছাতে দলটি তাদের গতি রোধ করে, জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নগদ, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
রবিউল ইসলাম যোগ করেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতরা ৫০‑৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করলেও কোনো ধরা না পড়ে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল না থাকায় তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ঈদগড় ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার জাফর ইকবাল জানান, এই অঞ্চলে প্রায়শই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আরেকজন বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকেরও শিকার হয়; তিনি সকাল সাড়ে ৬টায় পাঁচ যাত্রী বহনকারী সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রা করছিলেন, হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছাতে দলটি তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তিনি চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।