বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার শুনানি ৮ ডিসেম্বর
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি হবে আপিল বিভাগে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
পুরান ঢাকার দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এখন থেকে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান ও ওসমান চৌধুরী। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, 'চেম্বার আদালত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় থেকে উদ্ভূত আপিল ও ফৌজদারি আবেদন (লিভ টু আপিল) শুনানির জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।' মূলত হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কাইয়ুম মিয়া ওরফে টিপু এবং সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে খালাসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ এই লিভ টু আপিল করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর, যখন অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কর্মীরা বিশ্বজিৎ দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে শাঁখারীবাজারের রাস্তার মুখে পড়ে গেলে তাঁকে রিকশায় করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই আলোচিত মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় প্রদান করেন, যেখানে ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
পরবর্তীতে ডেথরেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আটজনের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রাখা হয়, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন দেওয়া হয় এবং দুজন খালাস পান। এছাড়া যাবজ্জীবন পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে দুজন খালাস পেলেও বাকি ১১ পলাতক আসামির বিষয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি। বর্তমানে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন।