‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ দাখিল
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি · গাজীপুর
প্রকাশ:
গত বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় ৭ বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে শিশুর স্বজনেরা মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শিশুর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এক মামলা দাখিল করেন; এজাহারের বিবরণে বলা আছে, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। শিশুর বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।
২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষককে কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন; তখন শিক্ষককে শোনা যায়, ‘...আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে শিশুর স্বজনেরা শিক্ষককে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন।
২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষককে কয়েকজন মারধর করছেন; মাদ্রাসায় থাকা লোকজন তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর স্বজনেরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
শিশুর বাবা জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে, যার ফলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না; পরিবারের সদস্যরা প্রথমে কিছু জানাতে পারল না, কিন্তু মা‑বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সব ঘটনা প্রকাশ পায়। এরপর স্বজনেরা বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং স্থানীয় লোকজনের সমাবেশে শিক্ষককে মারধর করা হয়।
মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে; তাকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য শিক্ষক‑শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীকেও মারধর করা হয়। আলমাছ হোসেন দাবি করেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং তিনি ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, হুমকি পাওয়ার ফলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়ে দেন, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের পৃথক অভিযোগ দাখিল করেছে। হুমকির বিষয়ে উভয় পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি জানিয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।