পুলিশের কাছ থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে
নিষিদ্ধঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলম শাহীনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি · ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ
প্রকাশ:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে এক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আটক ওই নেতার নাম রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০), যিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে অভিযান চালায়। সেখানে একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে রিয়াজুলকে আটক করা হলে রঙতরঙ্গ সংগঠনের সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত লোকজনের ধস্তাধস্তি হয় এবং রিয়াজুলকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি এবং মাদক আইনে একটিসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, 'তাঁকে আটক করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে বিএনপির স্থানীয় নেতা স্বপন ও মিলন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।' ওসি আরও জানান, ধস্তাধস্তিতে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি এবং রিয়াজুলকে হাতকড়া পরানোর আগেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপন। তিনি বলেন, 'তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।' সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া জানান, 'ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। দূরে চায়ের স্টলে ছিলাম। ছেলেটা আওয়ামী লীগ করায় পুলিশ ধরার পর ধস্তাধস্তি হতে দূর থেকে দেখেছি। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নাম ছড়াচ্ছে।'
তবে সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান আজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমরা থানায় অবস্থান করছি। বিস্তারিত পরে বলা হবে।' এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।