মেকআপ ছাড়াই পূজায় ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতার সহজ অভ্যাস
পরিষ্কার, ময়েশ্চারাইজার, এসপিএফ ৩০ সানস্ক্রিন, পানি ও ঘুমের দিকে নজর রাখার পরামর্শ
লাইফস্টাইল ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
পূজার সাজে সবার নজর কাড়তে ভারী মেকআপ লাগে না। পরিচ্ছন্ন, আর্দ্র ও সতেজ ত্বকই স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারে। তবে উৎসবের ব্যস্ততায় ঘুমের অনিয়ম, রোদে ঘোরাঘুরি, ধুলাবালি ও পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার কারণে ত্বক স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাতে পারে। তাই পূজার আগে থেকেই ত্বকের যত্নে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
ত্বক ভালো রাখতে প্রথমে নজর দিতে হবে পরিষ্কারের দিকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে শোয়ার আগে মৃদু ক্লিনজারে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এতে ত্বকে জমা ধুলাবালি, ঘাম ও বাড়তি তেল দূর হবে। তবে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কারের অভ্যাস এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজারও ভূমিকা রাখে। তৈলাক্ত ত্বক হলেও এই ধাপ বাদ দেওয়া উচিত নয়। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা, সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই আলতো হাতে ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়।
পূজার দিনগুলোতে অনেকটা সময় বাইরে কাটে, তাই রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা দরকার। বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন লাগান। অনেকক্ষণ বাইরে থাকলে প্রায় দুই ঘণ্টা পরপর এবং ঘাম হলে বা মুখ ধুয়ে ফেললে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার সানস্ক্রিন মাখুন। ছাতা, টুপি ও সানগ্লাসও রোদের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা পেতে সাহায্য করবে।
শুধু বাইরের যত্ন যথেষ্ট নয়, শরীরের ভেতরের দিকেও নজর দিতে হবে। পূজার কেনাকাটা, ঠাকুর দেখা ও ঘোরাঘুরির ব্যস্ততায় অনেকে নিয়মিত পানি খেতে ভুলে যান। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রভ দেখাতে পারে, তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন পেয়ারা, কমলালেবু, পেঁপে, গাজর, শাকসবজি ও নানা রঙের ফল। এসব খাবারের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞাপন
ঘুমের সঙ্গেও ত্বকের সুস্থতার যোগ আছে। পূজার রাতে দেরি করে ফেরা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ঘুমের সময় কমে যেতে পারে। কিন্তু ঘুম পর্যাপ্ত না হলে চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ ফোটে। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ঘুমের জন্যও সময় রাখুন। প্রতিদিন যথাসম্ভব নিয়মিত সময়ে শুতে যান এবং যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন।
চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দিলে পরিষ্কার ঠান্ডা কাপড় দিয়ে কিছুক্ষণ আলতো সেঁক দিতে পারেন। বরফ ব্যবহার করতে চাইলে তা সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না, পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে অল্প সময় ব্যবহার করুন। এতে সাময়িকভাবে ফোলাভাব কম মনে হতে পারে। তবে ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন।
ত্বক আর্দ্র রাখতে নিজের ত্বকের উপযোগী ফেস মাস্কও ব্যবহার করা যায়। তবে পূজার ঠিক আগে নতুন প্রসাধনী পরখ করার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। সংবেদনশীল ত্বক হলে নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে বিশেষ করে প্যাচ টেস্ট করে নিন। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে চাইলে সেটিও আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করা উচিত। কোনো অস্বস্তি, লালচে ভাব বা জ্বালা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মুখ মোছার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। মুখ ধোয়ার পর পরিষ্কার, নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে জল শুষে নিন। জোরে ঘষলে ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর আশায় লেবুর রস, বেকিং সোডা কিংবা খসখসে স্ক্রাবও মুখে লাগাবেন না। এগুলি ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা ও দাগের সমস্যা বাড়াতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সুষম খাবারও জরুরি। ডাল, ডিম, মাছ, দই ও বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। কোনো একটি খাবার খেলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে যায় না। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং উপযুক্ত ত্বক-পরিচর্যার সম্মিলিত প্রভাবেই ত্বক সুস্থ থাকে।
পূজার আগে ত্বকের যত্নে সবচেয়ে জরুরি হলো নিয়মিত অভ্যাস ধরে রাখা। শেষ মুহূর্তে একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করে পরিচিত ও সহনীয় পরিচর্যার রুটিন মেনে চলুন। তাতেই ভারী মেকআপ ছাড়াও ত্বকে স্বাভাবিক সতেজতা ও উজ্জ্বলতা ফুটে উঠতে পারে।