হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পার্থক্য কী
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাজ্যের এনএইচএস জানিয়েছে, দুটি অবস্থার কারণ, লক্ষণ ও করণীয় আলাদা
লাইফস্টাইল ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, শব্দ দুটি অনেক সময় এক অর্থে চালানো হয়। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে এ দুটি ভিন্ন অবস্থা। দুটিই প্রাণঘাতী হতে পারে, দুটিতেই দ্রুত চিকিৎসা লাগে। তবু কারণ, লক্ষণ ও জরুরি মুহূর্তের করণীয়ের দিক থেকে ফারাক বড়।
বিজ্ঞাপন
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) ও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাক মূলত হৃদ্যন্ত্রে রক্ত চলাচলের সমস্যা। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটে সাধারণত হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমের গোলযোগে।
করোনারি ধমনি দিয়ে হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত যায়। কোনো কারণে ওই ধমনিতে রক্ত চলাচল বাধা পেলে হৃদ্যন্ত্রের একটি অংশ যথেষ্ট অক্সিজেন পায় না। দ্রুত চিকিৎসা না মিললে সেই অংশের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থাকেই বলা হয় হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া।
হার্ট অ্যাটাকের পরিচিত লক্ষণ হলো বুকে চাপ, ব্যথা বা ভারী লাগা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরা। হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের ওপরের অংশেও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবার একই লক্ষণ হয় না, কখনও উপসর্গ হালকা বা অস্পষ্ট থাকে।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে গোলমাল বাধে। হৃৎস্পন্দন তখন এতটাই অনিয়মিত হতে পারে যে হৃদ্যন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। রক্তসঞ্চালন হঠাৎ থেমে গেলে মস্তিষ্কসহ শরীরের জরুরি অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
রোগী এ সময় আচমকা অচেতন হয়ে যেতে পারেন, ডাকে সাড়া না-ও দিতে পারেন, স্বাভাবিক শ্বাসও থেমে যেতে পারে। কখনও শুধু হাঁসফাঁস করার মতো শ্বাস দেখা যায়। এটি জীবনসংকটজনক জরুরি অবস্থা।
মূল ফারাক হলো, হার্ট অ্যাটাকে হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে রক্ত পৌঁছাতে সমস্যা হয়, কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে রক্ত পাম্প করার কার্যকর প্রক্রিয়াটিই হঠাৎ থেমে যায়। হার্ট অ্যাটাকের সময় রোগী সাধারণত সচেতন থাকেন এবং হৃদ্যন্ত্র স্পন্দিত হতে থাকে, যদিও গুরুতর অবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে রোগী সাধারণত দ্রুত অচেতন হন এবং স্বাভাবিক শ্বাস থাকে না।
দুই অবস্থার মধ্যে যোগসূত্রও আছে। হার্ট অ্যাটাক থেকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে, তবে প্রতিটি হার্ট অ্যাটাকে তা হয় না। হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের গোলযোগসহ অন্য সমস্যা থেকেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।
কারও বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ঠান্ডা ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। উপসর্গ আপনাআপনি কমে কি না, তা দেখতে গিয়ে সময় নষ্ট করা চলবে না।
বিজ্ঞাপন
কেউ হঠাৎ অচেতন হলে আগে দেখুন, তিনি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিক শ্বাস নিচ্ছেন কি না। সাড়া না দিলে ও স্বাভাবিক শ্বাস না থাকলে জরুরি পরিষেবায় ফোন করুন এবং সিপিআর শুরু করুন। কাছে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) থাকলে তার নির্দেশ মেনে চলুন। প্রশিক্ষণ না থাকলে জরুরি পরিষেবার ফোন-অপারেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী বুকের মাঝখানে দ্রুত ও জোরে চাপ দিতে থাকুন।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়, কিন্তু দুটিতেই জরুরি চিকিৎসা দরকার। লক্ষণ চিনে ঝটপট ব্যবস্থা নিলে জীবন বাঁচানো সম্ভব। এ তথ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (এনএইচএস) থেকে নেওয়া।