দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও উচ্চ শব্দে মাইক নিষিদ্ধ করতে নির্দেশনা
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা কমিটিগুলোকে ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধবভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোকে ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেওয়া এসব নির্দেশনায় পূজামণ্ডপে প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম না বাজানো এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরিষদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পূজা আয়োজনের প্রতিটি ধাপে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি মানতে হবে। প্লাস্টিকের বদলে ব্যবহার করতে হবে পরিবেশসম্মত উপকরণ। বিদ্যুতের অপচয় ঠেকাতে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় জরুরি সেবা সচল রাখতে জেনারেটর, ইউপিএস, সোলার প্যানেল, চার্জার লাইট বা এ ধরনের বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ-সংযোগের ক্ষেত্রে উন্নত মানের তার ও নিরাপদ সংযোগব্যবস্থা ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম বাজানো এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে বলেছে পরিষদ। ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান না বাজানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে উচ্চ স্বরে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করে তার বদলে ধর্মীয় গান বাজানোর নির্দেশনা দিয়েছে তারা। পূজার পরিবেশ যেন আশপাশের মানুষের অসুবিধা বা শব্দদূষণের কারণ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপকে নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, পর্যাপ্ত আলো এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার কথাও নির্দেশনায় আছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিমা নির্মাণ থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নজর দিতে হবে। প্রতিমা নিরঞ্জন ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ ও স্থান মেনে চলতে হবে। বিসর্জন শোভাযাত্রায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে সন্ধ্যার মধ্যেই বিসর্জন শেষ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে পরিষদ।
পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা যাতায়াত বা প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশনাও রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করে তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দিতে হবে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটলে গুজব না ছড়িয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। ইভ টিজিং, ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধে কাউকে জড়িত পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতীক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সম্প্রীতিময় ও পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।