যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, ফাঁকা টার্মিনাল ও পার্কিং
সৌদির রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৮ দিনে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
রবিবার দুপুর ঠিক ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন ও আগমনী, দুটি টার্মিনালেই কোনো যাত্রী চোখে পড়েনি। বিমানবন্দরের সামনের পার্কিংও ছিল গাড়িশূন্য। যাত্রীর চাপ না থাকায় কর্মকর্তারা অনেকটা চাপমুক্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিমানবন্দরের বাইরের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে আসা প্রবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে প্রবাসী নিতে যেসব গাড়ি আসত, সেগুলোও আর আসছে না। আগে একজন যাত্রীর সঙ্গে ৭-৮ জন স্বজন আসতেন। এতে পুরো বিমানবন্দর লোকেলোকারণ্য থাকত, পার্কিংয়েও জায়গা মিলত না। অনেককে বাধ্য হয়ে যত্রতত্র গাড়ি রাখতে হতো।
এখন সেই চিত্র নেই। যাত্রী নেই, গাড়ি নেই, স্বজনও নেই। পুরো বিমানবন্দরে বিরাজ করছে এক প্রকার শুনশান নীরবতা।
সরেজমিন দেখা যায়, আগমনী দুই টার্মিনালে আগের মতো কোলাহল নেই। যাত্রী নিতে স্বজনদের তাড়াহুড়ো, ভেতরে ঢোকার চেষ্টা কিংবা গাদিগাদি ভিড়ের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। একসঙ্গে দুই তিনটি ফ্লাইট নামলে ট্রলি নেওয়ার জন্য যে দৌড়ঝাঁপ হতো, তাও যেন হারিয়ে গেছে। সামনের কারপার্কিংয়ের জায়গা একেবারেই ফাঁকা।
দুবাই থেকে আসা যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ভাইকে নিতে এসেছেন। এর আগেও তিনি মাঝেমধ্যে বিমানবন্দরে এসেছেন, কিন্তু এমন অবস্থা কোনোদিন দেখেননি।
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্বে থাকা এপিবিএন সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সব ফাঁকা হয়ে আছে। যাত্রী না থাকায় বিমানবন্দর একেবারে ফাঁকা বললেই চলে। আগে যাত্রী ও স্বজনদের সামলানোর যে চাপ ছিল, এখন তা নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও চাপ বাড়বে।
বহির্গমনের অবস্থাও প্রায় একই রকম। সৌদি ফ্লাইট একের পর এক বাতিল হওয়ায় যাত্রীই নেই। ওমরা যাত্রী কিছুটা দেখা গেলেও আগের মতো যাত্রীর ঢল নেই।
কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে আসার সময় ক্যানোপিতে যে ভিড় দেখেছিলেন, আজ যাওয়ার সময় তার কিছুই না দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। ওপর-নিচে কোথাও যাত্রীর চাপ নেই। দোহাগামী আরেক যাত্রী তরিকুল ইসলাম বলেন, সৌদির পরিস্থিতি ভালো না হলে এমনই থাকবে।
অন্যদিকে কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা এখন কিছুটা চাপমুক্ত। যাত্রী না থাকায় তাঁরা অনেকটা আয়েশি ভঙ্গিতে দায়িত্ব পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগে খাওয়া, ওয়াশরুম এবং নামাজ পড়তে যেতেও সমস্যা হতো। কিন্তু গত কিছুদিন এমন অবস্থা একরকম বিরক্ত লাগছে। আমরা যাত্রী চাপে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এখন যেন কেমন কেমন লাগছে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর হুতিদের হামলায় রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শাহজালাল বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েন। একইভাবে সৌদি থেকেও দেশে আসতে পারছেন না হাজার হাজার প্রবাসী।