কাবিননামায় স্বাক্ষর ও সম্মতি নিয়ে বিবাহের বৈধতা
জোরপূর্বক স্বাক্ষর করলে বিবাহ স্বীকৃত হবে না, মুফতি রিয়াদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ, জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি; যাতে উভয় পক্ষের সম্মতি অপরিহার্য। কাউকে অনিচ্ছায় বিয়েতে বাধ্য করা ইসলামপরিপন্থী।’ তিনি জানতে চেয়েছেন, কাবিননামায় জোরপূর্বক অথবা প্রতারণা করে স্বাক্ষর করালে কি বিয়ে বৈধ হয়।
বিজ্ঞাপন
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বিধবা নারীকে তার মতামত নেওয়া ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি নেওয়া ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কুমারী নারীর অনুমতি কীভাবে বোঝা যাবে?’ তিনি বললেন, ‘তার নীরবতা।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬)
কিন্তু নীরবতাকে অনুমতি গণ্য করার বিধান স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য। ভয়, চাপ বা জবরদস্তির কারণে নীরব থাকাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মতি বলা যায় না। তাই জোর করে স্বাক্ষর নিলে তা স্বেচ্ছায় সম্মতি হিসেবে স্বীকৃত হবে না।
হানাফি ফিকহ অনুসারে, বিবাহের মূল শর্ত হল শারিয়তসম্মত ইজাব‑কবুল এবং সাক্ষীর উপস্থিতি। ইজাব মানে প্রস্তাব, আর কবুল মানে সেই প্রস্তাব গ্রহণ; এ দুইয়ের মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন হয়। কাগজে স্বাক্ষরকে সর্বদা ইজাব‑কবুলের বিকল্প ধরা যায় না।
যদি ভয় দেখিয়ে, প্রতারণা করে কিংবা পারিবারিক চাপ প্রয়োগ করে স্বাক্ষর করানো হয়, বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। স্বাক্ষর থাকা মানে স্বেচ্ছায় বিয়ের স্বীকৃতি নয়; স্পষ্টভাবে অসম্মতি জানানো পরেও বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করলে তা স্বীকৃত প্রমাণ হবে না।
বিজ্ঞাপন
কাবিননামায় স্বাক্ষর বিয়ের বৈধতার একমাত্র শর্ত নয়। শারিয়ত অনুসারে ইজাব‑কবুল সম্পন্ন হলে স্বাক্ষর না থাকলেও বিয়ে বৈধ হবে, আর স্বাক্ষর থাকলেও সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে ধরা যাবে না।
বাংলাদেশের আইনে মুসলিম বিয়ের নিবন্ধন ও কাবিননামার আইনগত গুরুত্ব আছে, তবে স্বাক্ষর নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে কেবল স্বাক্ষরের উপস্থিতি দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। স্বাক্ষরের সত্যতা, বিয়ের পরিস্থিতি ও প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ; তাই অভিযোগকারীকে প্রমাণ সংরক্ষণ ও আইনজীবীর পরামর্শ নিতে হবে।
মুফতি ফয়জুল্লাহ রিয়াদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক ও মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা, উত্তর দিয়েছেন যে সম্পূর্ণ ঘটনা বিশদভাবে নির্ভরযোগ্য মুফতিকে জানানো এবং নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নেওয়া অনুচিত। (ফাতহুল কাদির: ৩/১৯০; আল-হিদায়া: ২/৩০৬)