সুরা আদিয়াতে মানুষের জন্য রয়েছে কৃতজ্ঞতা ও সংযমের শিক্ষা
মাত্র ১১ আয়াতের এই সুরায় নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা, সম্পদের মোহ ও আখিরাতে গোপন বিষয় প্রকাশের কথা বলা হয়েছে
ধর্ম ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
পাওয়া আর চাওয়ার হিসাব মানুষের জীবনে কখনো ফুরোয় না। হাতে যা আছে তার চেয়ে যা নেই, অনেক সময় সেটাই আমাদের বেশি ভাবনায় ফেলে। রুটিরুজির পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ ভুলে যায় জীবনের আসল উদ্দেশ্য। সম্পদ, সাফল্য ও ভোগের লালসা কখনো এতটাই বেড়ে যায় যে মহান আল্লাহর অগণিত নেয়ামতের কথা আর মনেই থাকে না। মাত্র ১১ আয়াতের সুরা আদিয়াত মানুষের এসব দুর্বলতা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সামনে এনেছে।
বিজ্ঞাপন
সুরাটির শুরুতে আছে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ঘোড়ার দৃশ্য। তারপর আল্লাহ মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বভাব নিয়ে বলেছেন—‘নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা আদিয়াত, আয়াত ৬) ‘কানুদ’ শব্দের ব্যাখ্যায় তাফসিরকাররা বলেন, এমন মানুষের কথা বোঝানো হয়েছে, যে বিপদ-আপদ মনে রাখে, অথচ আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নেয়ামত ভুলে বসে।
নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া দরকার। সুস্থতা, পরিবার, নিরাপদ জীবন, রিজিক, জ্ঞান ও সময়—সবই আল্লাহর নেয়ামত। তবুও একটিমাত্র অভাবের কারণে মানুষ অনেক সময় অসংখ্য প্রাপ্তিকে গুরুত্ব দেয় না। সুরা আদিয়াত শেখায়, কেবল মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেই হয় না; আচরণ ও জীবনযাপনেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে।
নেয়ামতকে সঠিক কাজে লাগানো কৃতজ্ঞতার অন্যতম রূপ। অর্থ পেয়েছি—তাই অন্যায় পথে খরচ করব না; জ্ঞান পেয়েছি—তাই মানুষের উপকারে লাগাব; ক্ষমতা পেয়েছি—তাই দুর্বলকে দমন করব না।
সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি বিপজ্জনক। সুরাটির অষ্টম আয়াতে বলা হয়েছে, সম্পদের ভালোবাসায় মানুষ অত্যন্ত প্রবল। ইসলাম সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ করেনি। হালাল উপায়ে আয় করা এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ জমিয়ে রাখা বৈধ। বিপজ্জনক হলো সেই আসক্তি, যা মানুষকে আল্লাহর বিধান, নিজের দায়িত্ব ও পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
আজকের দিনে এই শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব আছে। বেশি আয়, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি কিংবা সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা যেন মানুষের বিবেক ও নৈতিকতাকে গ্রাস না করে। সম্পদ থাকবে মানুষের হাতে, কিন্তু হৃদয়ের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে না।
গোপন কাজও একদিন প্রকাশ পাবে। সুরার শেষ আয়াতগুলোতে মানুষকে আখিরাতের বাস্তবতা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কবর থেকে মানুষকে তোলা হবে এবং অন্তরের লুকানো বিষয়গুলো প্রকাশ করা হবে। সেদিন মানুষের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ অবগত থাকবেন।
এই শিক্ষা মানুষকে নিজেকে সংযত রাখতে সাহায্য করে। মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো কাজ করা গেলেও আল্লাহর কাছে তা লুকানো সম্ভব নয়। তাই প্রকাশ্য জীবনের পাশাপাশি অন্তরকেও পরিশুদ্ধ করা জরুরি।