ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যানচেস্টার সিটির জয়, লিভারপুলের নাটকীয় জয়
চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বড় জয় পেল সিটি, পিছিয়ে পড়েও ভিয়ারিয়ালেকে হারাল লিভারপুল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
চ্যাম্পিয়নস লিগের একই রাতে ভিন্ন দুটি ম্যাচের গল্প দেখা গেল। ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যানচেস্টার সিটি ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ গোলে ভিয়ারিয়ালেকে পরাজিত করেছে। এই ম্যাচে লিভারপুলের জয়ের নায়ক ছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা।
বিজ্ঞাপন
ম্যানচেস্টার সিটি গত সপ্তাহে ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল। সেই ধাক্কা সামলে এনজো মারেসকার দল এইকে এথেন্সের বিপক্ষে জয়ে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এরপর অ্যালানের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিল ফোডেন। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ এক শটে তিনি বল জালে জড়ান। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পাওয়া এই ইংলিশ তারকা এবার এক ম্যাচেই তিন গোল করলেন। বিরতির পর ব্যবধান কমায় এথেন্স। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিটি। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেনের অনবদ্য এক ভলি প্রথম স্পর্শেই পোস্টের কোণায় আঘাত করে। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ফোডেন। তিন গোল করার পাশাপাশি একটিতে সহায়তা করে ইতিহাদে নিজের রাতটি স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।
অ্যানফিল্ডের চিত্র ছিল একদমই আলাদা। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়, যার মাশুল দিতে হয়েছে শুরুতেই। রেনাতো ভেইগারের লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস ধরে ভিয়ারিয়ালেকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন সের্হি কার্দোনা।
দুই গোল হজম করার পর লিভারপুলের ঘুম ভাঙে। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো। দ্বিতীয়ার্থের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা এবং রায়ান গ্রাভেনবার্চকে রাইট ব্যাক পজিশনে পাঠান। এরপর মাঠে কার্যত রাজত্ব করে লিভারপুল।
বিজ্ঞাপন
কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ তৈরি করে দেন এনগুমোহা। এতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২। শেষ দিকে আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে ভিয়ারিয়ালে সমর্থকদের আশা জাগিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।