ফোনে ভার্চুয়াল র্যাম চালুর নিয়ম ও সুবিধা-অসুবিধা
ফোনের ব্র্যান্ডভেদে সুবিধাটির নাম আলাদা, স্যামসাংয়ে ‘র্যাম প্লাস’ ও শাওমিতে ‘মেমোরি এক্সটেনশন’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালালে কোনও অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা মাল্টি-টাস্কিংয়ের সময় এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যেতে দেরি হওয়ার সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। এ সমস্যা সামলাতে কিছু ফোনে ভার্চুয়াল র্যাম বা মেমোরি এক্সটেনশন সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের একটি অংশকে অস্থায়ী মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে সুবিধাটি চালু করলেই ফোনের কার্যক্ষমতা বাড়বে, এমন নয়। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে ফোনের র্যামের পরিমাণ ও ব্যবহারের ধরনের ওপর।
বিজ্ঞাপন
ফোনের র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরিতে চলমান অ্যাপের এবং মাল্টি-টাস্কিংয়ের সময় একাধিক অ্যাপের প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে জমা থাকে। র্যামের জায়গা কমে গেলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত কম ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যাতে সক্রিয় অ্যাপগুলো দরকারি মেমোরি পায়। ভার্চুয়াল র্যাম চালু থাকলে কিছু ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাপের তথ্য সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ স্টোরেজে রাখা যায়। এতে র্যামের ওপর চাপ কমতে পারে এবং এক অ্যাপ থেকে অন্যটিতে যাওয়ার সময় আগের অ্যাপটি নতুন করে শুরু থেকে চালু হওয়ার প্রয়োজন কমে।
তবে অভ্যন্তরীণ স্টোরেজে তথ্য পড়া ও লেখার (রিড ও রাইট) গতি ফোনের র্যামের চেয়ে কম। ফলে স্টোরেজে সরিয়ে রাখা তথ্য আবার দরকার হলে তা র্যামে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে। এতে অ্যাপ চালু করতে বা এক অ্যাপ থেকে অন্যটিতে যেতেও দেরি হতে পারে। ভার্চুয়াল র্যাম ব্যবহারের সময় স্টোরেজে বাড়তি রিডিং ও রাইটিং দরকার হয় বলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারি খরচও বাড়তে পারে।
৪ বা ৬ গিগাবাইট র্যামের ফোনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালু রাখতে হলে ভার্চুয়াল র্যাম সুফল দিতে পারে। বিশেষ করে ম্যাপ বা মিউজিক প্লেয়ারের মতো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ বারবার বন্ধ হয়ে গেলে এটি কাজে আসতে পারে। তবে ৮ গিগাবাইট বা তার বেশি র্যামের ফোনে সাধারণ ব্যবহারের জন্য এ সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজন তুলনামূলক কম।
গেম খেলার সময় ভার্চুয়াল র্যাম সব ক্ষেত্রে উপকারী নয়। গেমের দরকারি তথ্য ধীরগতির স্টোরেজ থেকে আনতে হলে কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই বেশি র্যাম লাগে এমন গেম বা অ্যাপ চালানোর সময় এটি চালু করলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিজ্ঞাপন
ফোনের ব্র্যান্ড অনুযায়ী এ সুবিধার নাম আলাদা হতে পারে। স্যামসাংয়ে এটি ‘র্যাম প্লাস’, শাওমিতে ‘মেমোরি এক্সটেনশন’ এবং মটোরোলায় ‘র্যাম বুস্ট’ নামে পাওয়া যায়। সাধারণত সেটিংসের ‘অ্যাবাউট ফোন’ বা ‘অ্যাডিশনাল সেটিংস’ বিভাগে অপশনটি থাকে। সেটিংসের সার্চ বারে ‘র্যাম’ বা ‘মেমোরি’ লিখে খুঁজলেও এটি পাওয়া যায়।
এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভার্চুয়াল মেমোরির পরিমাণ বেছে নিতে হবে। এতে ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের জায়গা ব্যবহৃত হবে এবং সেটিংস কার্যকর করতে ফোন পুনরায় চালু করার দরকার হতে পারে। তবে সব ফোনে এ সুবিধা পাওয়া যায় না।