নেপোলিয়নের সংকেতলিপির চিঠির পাঠোদ্ধার করল এআই
১৮০৯ সালের চিঠিটি দুই শতাধিক বছর অমীমাংসিত ছিল, জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা দিয়ে সমাধান হয়েছে ছয় ঘণ্টায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নির্দেশে ১৮০৯ সালে লেখা একটি সংকেতলিপির চিঠি দুই শতাধিক বছর ধরে অমীমাংসিত ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে মাত্র ছয় ঘণ্টায় তার পাঠোদ্ধার হয়েছে। এই সাফল্যে ইতিহাসচর্চায় উদীয়মান প্রযুক্তিটির বদলে দেওয়া ভূমিকা সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
সেন্টিনেলওয়ান নামের মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ২৭ বছর বয়সী এআই প্রকৌশলী কার্টার চার্চ ওপেনএআইয়ের সর্বশেষ মডেল জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা দিয়ে যুদ্ধকালীন এই বার্তা পড়তে পেরেছেন। চিঠিতে ফরাসি ও মিত্র সেনাদের অবস্থানের তথ্য আছে বলে দেখা গেছে। প্রতীক, সংখ্যা ও অক্ষরে লেখা চব্বিশ লাইনের চিঠিটি কয়েক দশক ধরে একটি অনলাইন একাডেমিক আর্কাইভে উপেক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।
চার্চের ভাষ্য, চলতি পদ্ধতিতে কাজটি করতে কয়েক সপ্তাহ লাগত। তিনি কয়েকটি সন্ধ্যা সংকেতলিপিটি নিয়ে বসেন। সমাধান ঠিক কি না যাচাই করতে পরে কথা বলেন জাপানি পেটেন্ট প্রকৌশলী সাতোশি তোমোকিয়োর সঙ্গে, যিনি অমীমাংসিত সংকেতলিপির একটি অনলাইন তালিকা দেখভাল করেন।
এএফপিকে চার্চ বলেন, এআই মূলত যা জোগায়, তা হলো অধ্যবসায়। ফল দেখে তিনি অবিশ্বাস্য তৃপ্তি ও উত্তেজনা বোধ করেছিলেন বলেও জানান। এই আবিষ্কার ঐতিহাসিক সংকেতবিদ্যায় চলা বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। সবার জন্য উন্মুক্ত এআই ব্যবস্থা এখন বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়া মানুষকেও এমন সমস্যা মেটাতে সহায়তা করছে, যার জন্য একসময় ব্যাপক গবেষণা ও শ্রমসাধ্য হাতে-কলমে কাজ দরকার হতো।
ক্রিপ্টিয়ানা ওয়েবসাইটটি অপেশাদার সংকেতবিদদের সহায়তা করে; তার পরিচালক তোমোকিয়ো ২০২৬ সালকে ঐতিহাসিক সংকেত ভাঙার সম্ভাব্য মোড় ঘোরানো বছর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তাঁর ওয়েবসাইটের তালিকার বেশির ভাগ সংকেতলিপি এআই দিয়ে সমাধান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গবেষকেরা কিছুদিন ধরেই সংকেতবিশ্লেষণের জন্য এআই ব্যবস্থা বানাচ্ছেন। তবে উন্নত সাধারণ উদ্দেশ্যের মডেল সবার নাগালে আসায় কাজ দ্রুত এগিয়েছে। চার্চ ব্যবহার করেছেন ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা। অন্যরা এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের মডেলও কাজে লাগিয়েছেন।
বছরের পর বছর কঠিন সংকেত নিয়ে কাজ করা উৎসাহীদের মধ্যে এই দ্রুত অগ্রগতি মিশ্র প্রতিক্রিয়াও জন্ম দিয়েছে। তোমোকিয়ো বলেন, দীর্ঘদিনের ধাঁধার সমাধান হওয়ায় তিনি খুশি। কিন্তু এআই এত সহজে এসব কঠিন সমস্যার সমাধান করে ফেলায় তাঁর মনে দ্বিধাও আছে। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত, কিন্তু অন্যদিকে তাঁর মিশ্র অনুভূতি, কারণ এআই এ কঠিন সমস্যাগুলো এত সহজে সমাধান করেছে বলে মনে হচ্ছে।
সবার আগে সংকেত ভাঙার তৃপ্তি এআই কেড়ে নিয়েছে, এ কথা মেনে নেন তোমোকিয়ো। তিনি বলেন, তাঁর নিজেকে অকেজো মনে হচ্ছে। তবে তাঁর ধারণা, কিছু সংকেতলিপি বছরের পর বছর অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে, বিশেষ করে যেখানে ধরন শনাক্তে এআইকে সহায়তা করার মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য কম।