অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম: ধাপে ধাপে সহজ পদ্ধতি
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে, নতুন ভোটার হয়েছেন অথচ স্মার্ট কার্ড এখনো হাতে আসেনি, কিংবা জরুরি কোনো কাজে কার্ডের একটি কপি দরকার, এমন সময় ঘরে বসেই এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ওয়েবসাইট services.nidw.gov.bd ব্যবহার করতে হয়। প্রথমবার একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, এরপর যতবার দরকার লগইন করে কার্ডের অনলাইন কপি নামানো যায়।
বিজ্ঞাপন
পুরো কাজে লাগে এনআইডি নম্বর অথবা নিবন্ধনের ফরম নম্বর, জন্মতারিখ, একটি সচল মোবাইল নম্বর আর একটি স্মার্টফোন। মুখমণ্ডল যাচাইয়ের জন্য ফোনে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ লাগবে। সব ঠিক থাকলে দশ থেকে পনেরো মিনিটেই কাজ শেষ হয়ে যায়, আর অনলাইন কপি ডাউনলোডের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
নিচে প্রতিটি ধাপ খুলে বলা হলো। সঙ্গে আছে ডাউনলোড আটকে গেলে কী করবেন, আর কপিটি কোথায় কতটা কাজে লাগে।
ডাউনলোড শুরুর আগে যা হাতের কাছে রাখবেন
কাজ মাঝপথে আটকে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো তথ্যের গরমিল। তাই আগেই কয়েকটি জিনিস গুছিয়ে নিন।
বিজ্ঞাপন
১. এনআইডি বা ফরম নম্বর: পুরোনো কার্ডধারীরা ১০ বা ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর দেবেন। যাঁরা নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু কার্ড পাননি, তাঁরা নিবন্ধনের সময় পাওয়া স্লিপের ফরম নম্বর ব্যবহার করবেন।
২. সঠিক জন্মতারিখ: নিবন্ধনের সময় যে জন্মতারিখ দেওয়া হয়েছিল, হুবহু সেটিই দিতে হবে। সনদে এক তারিখ আর ভোটার তালিকায় আরেক তারিখ থাকলে ভোটার তালিকারটিই কাজ করবে।
৩. নিজের নামে চালু মোবাইল নম্বর: এই নম্বরে এককালীন পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসবে। নম্বরটি যেন হাতের কাছে থাকে এবং এসএমএস পাওয়া যায়।
৪. স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট: মুখমণ্ডল যাচাইয়ের জন্য ক্যামেরাযুক্ত স্মার্টফোন দরকার। ওয়েবসাইটের কাজটি কম্পিউটারে করলে সুবিধা, কারণ তখন ফোন দিয়ে পর্দার কিউআর কোড স্ক্যান করা সহজ হয়।
বিজ্ঞাপন
৫. ঠিকানার তথ্য: নিবন্ধনের সময় দেওয়া স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা জানা থাকা দরকার।
ধাপে ধাপে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: ব্রাউজারে services.nidw.gov.bd লিখে ঢুকুন। প্রথম পাতায় নিবন্ধন বা রেজিস্টার করার বোতাম পাবেন, সেটিতে চাপ দিন।
২. নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়া: নির্ধারিত ঘরে এনআইডি বা ফরম নম্বর লিখুন, জন্মতারিখ বেছে নিন এবং পর্দায় দেখানো ক্যাপচা হুবহু টাইপ করে সাবমিট করুন।
বিজ্ঞাপন
৩. ঠিকানা মেলানো: এরপর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা চাওয়া হবে। নিবন্ধনের সময় যা দিয়েছিলেন, সেটিই বাছাই করুন। এখানে ভুল হলে সিস্টেম পরের ধাপে যেতে দেবে না।
৪. মোবাইল নম্বর যাচাই: নিজের মোবাইল নম্বর দিন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি ওটিপি আসবে, সেটি বসিয়ে বর্তমান ধাপ নিশ্চিত করুন।
৫. অ্যাপ নামানো ও কিউআর কোড স্ক্যান: পর্দায় একটি কিউআর কোড দেখাবে। ফোনে অ্যাপ স্টোর থেকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ নামিয়ে সেটি দিয়ে কোডটি স্ক্যান করুন।
৬. মুখমণ্ডল যাচাই: অ্যাপ সামনের ক্যামেরা চালু করবে। নির্দেশনা অনুযায়ী মুখ ডানে-বাঁয়ে ঘোরান বা চোখের পলক ফেলুন। আলো যেন মুখের সামনে থাকে, পেছনে নয়।
বিজ্ঞাপন
৭. ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড তৈরি: যাচাই সফল হলে ওয়েবসাইটে ফিরে নিজের জন্য একটি ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড ঠিক করুন। এগুলো লিখে নিরাপদ জায়গায় রেখে দিন।
৮. লগইন ও ডাউনলোড: নতুন ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। প্রোফাইল পাতায় নিজের তথ্য দেখা যাবে, সেখানেই ডাউনলোডের বোতাম থাকে। চাপ দিলে কার্ডের পিডিএফ কপি ফোন বা কম্পিউটারে জমা হবে।
পরেরবার আর নিবন্ধন লাগবে না। শুধু লগইন করলেই প্রোফাইল থেকে আবার কপি নামানো যাবে।
নতুন ভোটারদের জন্য: ফরম নম্বর দিয়ে কার্ড বের করার নিয়ম
বিজ্ঞাপন
যাঁরা সদ্য ভোটার হয়েছেন, তাঁদের হাতে এনআইডি নম্বর থাকে না, থাকে নিবন্ধন ফরমের নম্বর। এ ক্ষেত্রে নম্বরের ঘরে শুরুতে ইংরেজিতে NIDFN লিখে তার পর ফরম নম্বরটি দিতে হয়। বাকি ধাপ একই রকম।
মনে রাখতে হবে, ছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার পরপরই কার্ড ডাউনলোড করা যায় না। তথ্য যাচাই শেষে কমিশন অনুমোদন দিলে তবেই প্রোফাইলে কার্ডের কপি দেখা যায়। এ কাজে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। অনুমোদনের আগে চেষ্টা করলে সাইট জানাবে যে তথ্য পাওয়া যায়নি, অথবা প্রক্রিয়াধীন দেখাবে। তখন কিছুদিন অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করাই ভালো।
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড হচ্ছে না কেন
অনেকেই অভিযোগ করেন, সব ধাপ ঠিকঠাক করার পরও কার্ড নামছে না। সাধারণত নিচের কারণগুলোর কোনো একটি দায়ী থাকে।
বিজ্ঞাপন
তথ্যের অমিল: জন্মতারিখ বা ঠিকানায় সামান্য গরমিল থাকলেও সিস্টেম অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয় না। নিবন্ধনের স্লিপ বা পুরোনো কার্ড দেখে তথ্য মিলিয়ে নিন।
মুখমণ্ডল যাচাইয়ে ব্যর্থতা: কম আলো, চশমার প্রতিফলন, মাথা দ্রুত নাড়ানো কিংবা দুর্বল ইন্টারনেটে যাচাই আটকে যায়। দিনের আলোয়, চশমা খুলে, ধীরে মুখ ঘুরিয়ে আবার চেষ্টা করুন। বারবার ব্যর্থ হলে কিছুক্ষণ বিরতি দিন।
কার্ড এখনো অনুমোদিত হয়নি: নতুন ভোটার বা সংশোধনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ডাউনলোড বন্ধ থাকে।
এনআইডি ব্লক বা স্থগিত: দ্বৈত নিবন্ধন, তথ্য নিয়ে আপত্তি বা অন্য কোনো কারণে কারও এনআইডি স্থগিত থাকলে অনলাইনে কপি নামানো যায় না। এ ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সার্ভারের চাপ ও ব্রাউজারের সমস্যা: একসঙ্গে বহু মানুষ সাইটে ঢুকলে পাতা ধীর হয়ে যায়। রাতে বা ভোরে চেষ্টা করুন, ব্রাউজারের ক্যাশ মুছে নিন, প্রয়োজনে অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করুন।
অনলাইন কপি কোথায় কাজে লাগে, প্রিন্ট করবেন কীভাবে
ডাউনলোড করা পিডিএফটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি। ব্যাংক হিসাব খোলা, সিম নিবন্ধন, চাকরির আবেদনসহ বহু কাজে এটি গ্রহণ করা হয়, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করে নিতে পারে। তবে কিছু অফিস প্লাস্টিক বা স্মার্ট কার্ড দেখতে চাইতে পারে, সে ক্ষেত্রে আগে জেনে নেওয়া ভালো।
প্রিন্ট করার সময় সাধারণ এ-ফোর কাগজে প্রকৃত মাপে প্রিন্ট দিন, যাতে লেখা ও ছবি স্পষ্ট থাকে। চাইলে কম্পিউটারের দোকান থেকে লেমিনেট করে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, অনলাইন কপি হারানো স্মার্ট কার্ডের বিকল্প পুরোপুরি নয়। কার্ড হারালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নির্ধারিত ফি দিয়ে পুনর্মুদ্রণের আবেদন করতে হয়, সে আবেদনও এই একই অ্যাকাউন্ট থেকে করা যায়।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তায় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
এনআইডি অ্যাকাউন্টে আপনার নাম, ঠিকানা, মা-বাবার নামসহ স্পর্শকাতর তথ্য থাকে। তাই কয়েকটি সতর্কতা মেনে চলুন।
ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কাউকে বলবেন না। কম্পিউটারের দোকানে কাজ করালে শেষে অবশ্যই লগআউট করুন এবং দোকানের কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করা ফাইল মুছে দিতে বলুন। ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে কার্ডের ছবি পাঠানোর আগে দুবার ভাবুন। আর ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালো করে দেখে নিন, কারণ দেখতে একই রকম ভুয়া সাইটও তৈরি হয়। সরকারি সাইটের ঠিকানা শেষ হয় gov.bd দিয়ে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে কি টাকা লাগে?
না। নিবন্ধন করে অনলাইন কপি ডাউনলোড করা বিনা মূল্যের সেবা। তবে হারানো কার্ড পুনর্মুদ্রণ বা তথ্য সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়।
স্মার্টফোন না থাকলে কি এনআইডি কার্ড বের করা যাবে?
মুখমণ্ডল যাচাইয়ের জন্য স্মার্টফোন লাগে। নিজের না থাকলে পরিবারের কারও ফোনে অ্যাপটি নামিয়ে নিজের মুখ দিয়ে যাচাই করা যায়। কাজ শেষে সেই ফোন থেকে লগআউট করে নিন।
বিজ্ঞাপন
মোবাইল নম্বর বদলে গেলে কী করব?
নিবন্ধনের সময় যে নম্বর দেবেন, ওটিপি সেখানেই আসবে। পুরোনো নম্বর না থাকলে নতুন নম্বর দিয়েই নিবন্ধন করুন। লগইনের পর প্রোফাইল থেকে সাধারণত যোগাযোগের নম্বর হালনাগাদ করা যায়।
একই এনআইডি দিয়ে কি একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়?
না, একটি এনআইডির বিপরীতে একটি অ্যাকাউন্টই থাকে। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে নতুন অ্যাকাউন্ট না খুলে লগইন পাতার পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের অপশন ব্যবহার করুন।