জন্ম নিবন্ধন অনলাইন যাচাই করার নিয়ম: মোবাইল থেকেই তথ্য দেখুন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্টের আবেদন কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, জন্মসনদটি অনলাইনে আছে তো? হাতে কাগজের সনদ থাকলেও সেটি সরকারি ডেটাবেজে না থাকলে অনেক কাজ আটকে যায়। সুখবর হলো, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন যাচাই করতে কোথাও যেতে হয় না। মোবাইলের ব্রাউজার থেকেই এক মিনিটে তথ্য দেখে নেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
যাচাইয়ের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট everify.bdris.gov.bd ব্যবহার করতে হয়। সেখানে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিলেই নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম, মা-বাবার নাম, জন্মস্থান ও কোন কার্যালয় থেকে নিবন্ধন হয়েছে, তা দেখা যায়। কোনো ফি নেই, অ্যাকাউন্ট খোলারও দরকার পড়ে না।
যাচাইয়ের জন্য কী কী লাগবে
এই কাজে মাত্র তিনটি জিনিস দরকার। প্রথমত, জন্মসনদে লেখা নিবন্ধন নম্বর। ডিজিটাল সনদে এটি সাধারণত ১৭ সংখ্যার হয়, শুরুতে থাকে নিবন্ধনের বছর। দ্বিতীয়ত, সনদে লেখা জন্মতারিখ। তৃতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি মোবাইল বা কম্পিউটার।
কারও কাছে যদি পুরোনো ১৬ সংখ্যার নম্বর থাকে, তবে সেটি দিয়েও অনেক সময় তথ্য আসে। না এলে বুঝতে হবে নম্বরটি নতুন পদ্ধতিতে হালনাগাদ হয়নি। সে প্রসঙ্গে নিচে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ধাপে ধাপে জন্ম নিবন্ধন যাচাই
১. সাইটে ঢুকুন: মোবাইলের ব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd লিখে প্রবেশ করুন। পাতাটি খুব সাদামাটা, ওপরে যাচাই ফরমটিই থাকে।
২. নিবন্ধন নম্বর লিখুন: প্রথম ঘরে জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি ইংরেজি অঙ্কে টাইপ করুন। মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা বা ড্যাশ দেবেন না।
৩. জন্মতারিখ দিন: দ্বিতীয় ঘরে জন্মতারিখ দিতে হয় বছর-মাস-দিন ক্রমে। যেমন ২০১০ সালের ৫ মার্চ জন্ম হলে লিখতে হবে 2010-03-05। ক্যালেন্ডার থেকেও তারিখ বেছে নেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
৪. ছোট অঙ্কের উত্তর দিন: যন্ত্র নয়, মানুষ যাচাই করছে কি না নিশ্চিত হতে পাতায় দুটি সংখ্যার যোগ বা বিয়োগের একটি প্রশ্ন থাকে। উত্তরটি ঘরে লিখুন।
৫. সার্চ বা অনুসন্ধানে চাপ দিন: তথ্য মিললে নিচে একটি তালিকায় নিবন্ধিত ব্যক্তির বাংলা ও ইংরেজি নাম, লিঙ্গ, জন্মস্থান, মা-বাবার নাম ও নিবন্ধন কার্যালয়ের নাম দেখাবে।
চাইলে ফলাফলের পাতার স্ক্রিনশট রেখে দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এটি সনদ নয়, শুধু যাচাইয়ের ফল।
ফলাফলে কী দেখবেন, কী মিলিয়ে নেবেন
বিজ্ঞাপন
তথ্য দেখা গেলেই কাজ শেষ নয়। কাগজের সনদের সঙ্গে প্রতিটি ঘর মিলিয়ে দেখুন। নামের বানান, বিশেষ করে ইংরেজি বানান, পরে পাসপোর্ট ও এনআইডিতে বড় ঝামেলা তৈরি করে। মা-বাবার নাম তাঁদের নিজেদের এনআইডির সঙ্গে হুবহু মিলছে কি না, সেটিও দেখে নিন।
অনেক সময় দেখা যায়, অনলাইনে শুধু বাংলা নাম আছে, ইংরেজি ঘর ফাঁকা। কিংবা জন্মস্থানের নাম ভুল। এগুলো ছোট ভুল মনে হলেও সময়মতো সংশোধন না করলে পরে একাধিক নথিতে অমিল তৈরি হয়। কোনো গরমিল পেলে দেরি না করে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করে ফেলুন।
তথ্য না এলে কী বুঝবেন
যাচাইয়ের পর যদি লেখা আসে তথ্য পাওয়া যায়নি, তাহলে কয়েকটি সম্ভাবনা থাকে।
বিজ্ঞাপন
টাইপে ভুল: সবচেয়ে সাধারণ কারণ। নম্বরের একটি অঙ্ক বা তারিখের মাস-দিন উল্টে গেলেও ফল আসে না। ধীরে আবার লিখে দেখুন।
হাতে লেখা পুরোনো নিবন্ধন: অনলাইন ব্যবস্থা চালুর আগে বহু নিবন্ধন হয়েছে বইয়ে লিখে। সেগুলোর অনেকটাই পরে কম্পিউটারে তোলা হলেও সব হয়নি। এমন সনদ হলে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখানে গিয়ে পুরোনো সনদ দেখিয়ে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা জানতে হবে। কার্যালয়ের রেজিস্টারে তথ্য না পাওয়া গেলে নতুন করে নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
ভুয়া সনদ: দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু দালাল কম্পিউটারে বানানো সনদ ধরিয়ে দেয়। দেখতে আসলের মতো হলেও সার্ভারে এর অস্তিত্ব থাকে না। এমন হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান এবং সঠিক নিয়মে নিবন্ধন করুন।
সার্ভার সাময়িক বন্ধ: মাঝেমধ্যে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাইট কাজ করে না। কয়েক ঘণ্টা পর আবার চেষ্টা করুন।
বিজ্ঞাপন
ছোট পর্দায় কাজ করতে গিয়ে অনেকে বারবার ভুল করেন। নিবন্ধন নম্বর লেখার সময় ফোনের কি-বোর্ড ইংরেজিতে রাখুন, কারণ বাংলা অঙ্কে লিখলে সার্ভার নম্বরটি চিনতে পারে না। জন্মতারিখের ঘরে মাস ও দিন এক অঙ্কের হলে সামনে শূন্য দিতে ভুলবেন না, যেমন মার্চ মানে 03। পাতাটি ছোট দেখালে দুই আঙুলে টেনে বড় করে নিন, অথবা ব্রাউজারের ডেস্কটপ সংস্করণ চালু করুন।
একই সঙ্গে কয়েকজনের তথ্য যাচাই করতে চাইলে প্রতিবার পাতাটি নতুন করে লোড করুন। পুরোনো তথ্য রেখে নতুন নম্বর বসালে অনেক সময় অঙ্কের প্রশ্ন বদলে যায় এবং ফল আসে না। ফলাফলের পাতা খোলা অবস্থায় স্ক্রিনশট নিয়ে রাখলে পরে অফিসে দেখাতে সুবিধা হয়।
অন্যের সনদ যাচাই: কারা, কেন করেন
এই ব্যবস্থা শুধু নিজের জন্য নয়। বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে বাড়িওয়ালা, গৃহকর্মী রাখার আগে পরিবার, কিংবা নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তাঁর দেওয়া জন্মসনদ যাচাই করে দেখতে পারেন। কাগজের সনদে যা লেখা, অনলাইনেও তা-ই আছে কি না, মিলিয়ে নিলেই বোঝা যায় নথিটি আসল কি না। তবে অন্যের তথ্য দেখে তা কোথাও প্রকাশ করা বা অপব্যবহার করা অনুচিত, এবং তা আইনি ঝামেলাও ডেকে আনতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কখন যাচাই করে নেওয়া জরুরি
কয়েকটি পরিস্থিতিতে আগেভাগে যাচাই করে রাখলে পরে দৌড়ঝাঁপ কমে। সন্তানকে স্কুলে ভর্তির আগে, কারণ এখন অনেক বিদ্যালয় অনলাইনে নিবন্ধন নম্বর মিলিয়ে নেয়। পাসপোর্টের আবেদনের আগে, কারণ ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনই মূল পরিচয়পত্র। নতুন ভোটার হওয়ার আগে, কারণ নির্বাচন অফিস অনলাইন জন্মসনদ দেখতে চায়।
এ ছাড়া নিজের বা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করার পর সনদ হাতে পেয়েই একবার যাচাই করে নিন। দালালের মাধ্যমে কাজ করালে এই অভ্যাস প্রতারণা থেকেও বাঁচায়।
২০০১ সাল বা তার পরে জন্ম নেওয়া কারও নতুন নিবন্ধন বা সংশোধনের সময় এখন সাধারণত মা-বাবার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর চাওয়া হয়। তাই সন্তানের কাজ শুরুর আগে মা-বাবার নিজেদের নিবন্ধনও এই একই পদ্ধতিতে যাচাই করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। তাঁদের তথ্য অনলাইনে না থাকলে আগে সেটি ঠিক করতে হবে, নইলে সন্তানের আবেদন আটকে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ জিজ্ঞাসা
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি কোনো টাকা লাগে?
না, অনলাইনে যাচাই সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। কেউ যাচাইয়ের নামে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন।
জন্ম নিবন্ধন নম্বর মনে নেই, কীভাবে চেক করব অনলাইনে?
বিজ্ঞাপন
নম্বর ছাড়া অনলাইনে খোঁজার কোনো ব্যবস্থা নেই। পুরোনো সনদ, স্কুলের কাগজপত্র বা পাসপোর্টের আবেদনের কপি থেকে নম্বর খুঁজে নিন। না পেলে নিবন্ধন কার্যালয়ে নাম ও মা-বাবার তথ্য দিয়ে খোঁজ করতে পারেন।
যাচাইয়ের পাতার প্রিন্ট কি সনদ হিসেবে চলবে?
না। এটি শুধু তথ্য দেখার ব্যবস্থা। সনদের মূল কপি বা নতুন কপি নিতে হবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় থেকে।
ইংরেজি নামের ঘর ফাঁকা দেখাচ্ছে, কী করব?
বিজ্ঞাপন
পুরোনো অনেক নিবন্ধনে কেবল বাংলা তথ্য থাকে। অনলাইনে সংশোধন বা তথ্য সংযোজনের আবেদন করে ইংরেজি নাম যুক্ত করে নিন।