দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেট
২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের ছুটিতে কক্সবাজারে ছয় লাখের বেশি পর্যটক আসার প্রত্যাশা, আবাসনের প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং
ট্রাভেল ডেস্ক · কক্সবাজার
প্রকাশ:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ছুটিকে ঘিরে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি বাড়ছে। এই টানা ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে। পর্যটকের সম্ভাব্য বাড়তি উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন সাজে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
বিজ্ঞাপন
প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপের জন্য পরিচিত কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে এবার ছুটির সময় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, দীর্ঘ ছুটির সুযোগে এবার বিভিন্ন পর্যটন স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভ্রমণপিপাসুর সমাগম হবে। তাঁদের আগমন ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নানা প্রস্তুতি চলছে। পর্যটকদের থাকা ও ভ্রমণ আরও আনন্দময় করতে আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গুছিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান কক্সবাজার। দীর্ঘ বালুকাবেলার সমুদ্রসৈকত, সূর্যাস্তের দৃশ্য, মেরিন ড্রাইভ এবং ইনানী সৈকতের পাথুরে উপকূল পর্যটকদের বরাবরই টানে। সমুদ্রের পাশে সময় কাটাতে, সৈকতে হাঁটতে কিংবা সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নিতে প্রতিবছর ছুটির সময় এখানে ভিড় বাড়ে।
২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ছয় লাখের বেশি পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০ শতাংশ আবাসন আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের চাপ সামলাতে পরিবহণ সেবা, আতিথেয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও চলছে। কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাপ সামলাতে বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সৈকতে ঘোরার পাশাপাশি পর্যটকেরা চাইলে মেরিন ড্রাইভ ধরেও ভ্রমণ করতে পারেন। তবে ছুটির সময় হোটেলভাড়া ও যাতায়াতের খরচ বাড়তে পারে, তাই আগেভাগে বুকিং দিয়ে খরচের হিসাব কষে নেওয়া ভালো।
বিজ্ঞাপন
সমুদ্রের বদলে যাঁরা পাহাড়ি প্রকৃতি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান বান্দরবান। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, মেঘে ঢাকা পাহাড়ের চূড়া, সবুজ বন ও ঝরনা এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। নীলাচল থেকে পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত। এ ছাড়া শৈলপ্রপাত, দেবতাখুম, নাফাখুম ও আমিয়াখুম প্রকৃতিপ্রেমীদের টানে।
দুর্গাপূজার ছুটির আগে বান্দরবানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। ছুটির সময় আরও পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সবুজের সমারোহ, চা-বাগান, নদী ও পাথরঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য সিলেট পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। জাফলংয়ের পাহাড় ও নদীর দৃশ্য, বিছনাকান্দির পাথুরে জলপ্রবাহ, সাদাপাথরের স্বচ্ছ জল এবং রাতারগুলের জলাবন, প্রতিটি জায়গার রূপ আলাদা। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে এসব জায়গা পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে।
দুর্গাপূজার ছুটি সামনে রেখে সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ীরা পর্যটক বরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল-রিসোর্টের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহণ, নৌযান, ট্যুর গাইড এবং ছোট ব্যবসায়ীদেরও আয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যাতায়াতের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সেবার মান, সব ক্ষেত্রেই বাড়তি নজর দরকার।
ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো। হোটেল বা রিসোর্টের কক্ষ আগাম বুকিং দিন এবং বুকিংয়ের শর্ত নিশ্চিত করুন। বাস, ট্রেন কিংবা স্থানীয় পরিবহণের সময়সূচি ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করুন। আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের খরচ মিলিয়ে পরিকল্পনা করুন। সমুদ্রসৈকতে সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলুন এবং পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
সঠিক পরিকল্পনা, আগাম বুকিং ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো মাথায় রাখলে দুর্গাপূজার এই ছুটির ভ্রমণ আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে।