ফ্লোরিডার গলফ ক্লাবে আরেকটি ‘ক্যাম্প ডেভিড’ বানাতে চান ট্রাম্প

ফ্লোরিডার গলফ ক্লাবে আরেকটি ‘ক্যাম্প ডেভিড’ বানাতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় নিজের গলফ ক্লাবকে ক্যাম্প ডেভিডের আদলে প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের খরচে এর নির্মাণকাজ করবে এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য একটি ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হবে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী,…

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় নিজের গলফ ক্লাবকে ক্যাম্প ডেভিডের আদলে প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের খরচে এর নির্মাণকাজ করবে এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য একটি ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ট্রাম্প এ নিয়ে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিষয়টি হোয়াইট হাউসের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। 

ক্যাম্প ডেভিড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিশ্রামের স্থান হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত এটি শাংগ্রি-লা নামে পরিচিতি ছিল। ওয়াশিংটন ডিসির ৬২ মাইল (১০০ কিমি) উত্তর-উত্তর-পশ্চিমাংশের মেরিল্যান্ডের থারমন্টের কাছে ক্যাটোকটিন মাউন্টেইন পার্কে অবস্থিত। আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্থানটি নেভাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি থারমন্ট নামে পরিচিত। মূলত এটি একটি সামরিক স্থাপনা। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সদস্যগণ দায়িত্ব পালন করেন। পর্বতসঙ্কুল এলাকায় ২০০ একর (৮১ হেক্টর) এলাকা নিয়ে ক্যাম্প ডেভিড গড়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেস্টনি বিদ্যমান থাকায় সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।

ট্রাম্প বলেন, স্থানটি বিমানবন্দর থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে। সেখানে প্রেসিডেন্টরা সপ্তাহান্তে অবকাশ কাটাতে পারবেন এবং এটি অনেকটা ক্যাম্প ডেভিডের মতো প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের জন্য সেখানে বিনা মূল্যে সদস্যপদও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও করা হবে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন এই অবকাশকেন্দ্রটি ঐতিহাসিক ক্যাম্প ডেভিডের বর্তমান পরিবেশের সঙ্গে বড় ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করবে। মেরিল্যান্ডের ক্যাটোচটিন মাউন্টেন পার্কের গভীরে অবস্থিত ক্যাম্প ডেভিড একসময় মহামন্দার সময় ফেডারেল কর্মীদের জন্য তৈরি একটি ক্যাম্প ছিল। পরে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট এটিকে প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ‘শাংগ্রি-লা’।

বর্তমানে ক্যাম্প ডেভিড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি নেভাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি, থারমন্টের অংশ এবং পুরো স্থাপনাটি মার্কিন নৌবাহিনী ও মেরিন কোরের সদস্যরা পরিচালনা করেন। নিরাপত্তার কারণে এলাকাটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়। আশপাশে মেরিন সদস্যরা নিরাপত্তা দেন এবং আকাশসীমায়ও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ক্যাম্প ডেভিডের ভেতরে কাঠ ও পাথরের তৈরি কেবিন এবং লজ রয়েছে। গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও অত্যন্ত সীমিত। সম্প্রতি সেখানে বিবিসির সাংবাদিকসহ হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের সাংবাদিকদের সফরের সময়ও কোথায় ছবি তোলা যাবে এবং ক্যাম্পের কোন তথ্য প্রকাশ করা যাবে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত ট্রাম্পের গলফ ক্লাব সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে অবস্থিত। শহরের সঙ্গে এর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সেখানে অবস্থান করলে অনেক সময় তার সমর্থক ও বিরোধীরা ক্লাবের আশপাশে জড়ো হন।

এই গলফ ক্লাবে বিলাসবহুল ক্লাবহাউস, উপহারের দোকান ও খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লাবটি নিজেদের ‘প্রাণবন্ত সামাজিক পরিবেশ’ ও উন্নতমানের খাবারের জন্য প্রচার করে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্ররাও ফ্লোরিডায় তার অনেক সাপ্তাহিক ছুটির সময় সেখানে যাতায়াত করেন।

ফ্লোরিডার গলফ ক্লাবকে নতুন অবকাশকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম ও একটি বিশাল বিজয়তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের পক্ষেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও নিরাপত্তাজনিত যুক্তি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগ তার মেয়াদে প্রেসিডেন্টের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও আনুষ্ঠানিকতার ধরনে ধারাবাহিক পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণ হতে পারে। এর আগে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সোনালি অলংকরণ, ইস্ট উইং ভেঙে নতুন বলরুম নির্মাণ এবং ওয়াশিংটনে বিশাল তোরণ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি 

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন