যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গত সপ্তাহে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় ঢাকায় এসেও ফিরে যেতে হয়েছিল হাজারো চাকরিপ্রার্থীকে।
সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কেটেছে টানটান উত্তেজনার রাত। একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অন্যদিকে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া চক্র ফের প্রশ্নফাঁসের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
তবে এক সপ্তাহ আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মরিয়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।
প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ জন্য বৃহস্পতিবার রাত সচিবালয়েই কাটিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় নিয়োগ পরীক্ষা সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলছিল। রাতে সেখানে অবস্থান করছিলেন প্রতিমন্ত্রীসহ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সে জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করবেন আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ তদারক করতে মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ নিয়োগ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারাও সেখানে রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে শেষ করা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে।
রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। আগের ঘটনার পর এবার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। গত ১০ অক্টোবর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করার পর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল২৪-এর অনুসন্ধান বলছে, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। প্রশ্ন সরবরাহ করতে না পারলে তাদের সাদা খাতা জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরে চক্রের সদস্যরা খাতায় উত্তর লিখে নাম ও রোল নম্বর যুক্ত করে দেওয়ার কথা বলেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক প্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে তদন্তের সময় বাড়ানো হয়।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এবার পরীক্ষা ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।








মন্তব্য