নিজের জন্য বাঁচার সময় পাইনি

নিজের জন্য বাঁচার সময় পাইনি

প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন নানা পাটেকর। তবে নিজের জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেতা একবার জানিয়েছিলেন, শিল্পীর জীবন আসলে নিজের জন্য নয়। তার ভাষায়, হামারি জিন্দেগি উধার কি হ্যায় না,…

প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন নানা পাটেকর। তবে নিজের জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেতা একবার জানিয়েছিলেন, শিল্পীর জীবন আসলে নিজের জন্য নয়। তার ভাষায়, হামারি জিন্দেগি উধার কি হ্যায় না, আমাদের জীবন তো অন্যদের জন্যই। ৭৫ বছর বয়সে নানার মৃত্যুর পর তার সেই কথাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুই বছর আগে দ্য লাল্লানটপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন ও শিল্পীসত্তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন তিনি।

নানা বলেছিলেন, আমরা কখনো নিজের জন্য বাঁচার সময় পাইনি। আজ আমরা একটি চরিত্রের জীবন যাপন করছি, কাল অন্য একটি চরিত্রের। হয়তো একদিন থামলে, একটু বিরতি নিলে নিজেদের কথা ভাবতে পারব; কিন্তু সেই দিন আর আসে না। একসময় এটাই অভ্যাস হয়ে যায়।

শিল্পীর জীবনের আরেকটি দিক তুলে ধরে নানা বলেছিলেন, মঞ্চে অভিনয়ের সময় সামনে থাকে অন্ধকার। সেই অন্ধকারের মধ্যেই শিল্পীকে নিজের আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। তার কথায়, মঞ্চে আমরা থাকি, সামনে থাকে অন্ধকার। হয়তো এটাই একজন শিল্পীর জীবন, সেই অন্ধকারের মধ্যেই নিজের আনন্দ খুঁজে নেওয়া। আর দর্শকের করতালির প্রতিধ্বনি একসময় নেশার মতো হয়ে যায়। তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। নানা আরও বলেছিলেন, যেদিন সেই কণ্ঠস্বর অর্থাৎ করতালির শব্দ থেমে যাবে, সেদিনই আমাদের মৃত্যু। এরপর আর কেউ আমাদের অভিনয়ে নেবে না, আমাদের প্রয়োজনও থাকবে না।

নানার অভিনয়জীবনের শুরুটাও ছিল ব্যক্তিগত এক আকাঙ্ক্ষা থেকে। বাবার ভালোবাসা ও মনোযোগ পাওয়ার জন্যই ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। স্কুলে একবার বাল্মীকি নিয়ে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন নানা। সেখানে তার চরিত্র ছিল বাল্মীকির এক সহযোগীর। ছেলের অভিনয় দেখতে শহর থেকে গ্রামে ছুটে এসেছিলেন তার বাবা দিনকর পাটেকর। নানা স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, আমার মনে হতো, বাবা আমার ভাইদের আমাকে বেশি ভালোবাসেন। কারণ আমি দেখতে খুব একটা ভালো ছিলাম না। কিন্তু বাল্মীকির নাটকে অভিনয় করার সময়, যদিও আমি শুধু একজন সহযোগীর চরিত্রে ছিলাম, বাবা আমাকে দেখতে গ্রামে এসেছিলেন। তখন মনে হয়েছিল, বাবার দৃষ্টি আমার দিকে আনার জন্য এটাই দারুণ একটা উপায়। সেই শুরু থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত অভিনয়ই হয়ে ওঠে নানার জীবনের অন্যতম প্রধান সঙ্গী।

১৯৭৮ সালে গমন সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা পাটেকর অভিনয় করেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। দ্য ভ্যাকসিন ওয়ার (২০২৩), ওলে আলে ও বনবাস (২০২৪), হাউসফুল ৫ (২০২৫) এবং ও রোমিও (২০২৬)-এর মতো সিনেমাতেও তাকে দেখা গেছে। অনিল কাপুর অভিনীত সুবেদার সিনেমায় বিশেষ চরিত্রে শেষবার পর্দায় উপস্থিত হন তিনি। এ ছাড়া প্রকাশ ঝা পরিচালিত সংকল্প সিরিজেও ছিলেন নানা। সিরিজটিতে মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব, কুবরা সাইত, সঞ্জয় কাপুর ও নীরা কাবি অভিনয় করেছেন। সিরিজটি অ্যামাজন এমএক্স প্লেয়ারে স্ট্রিমিং হচ্ছে। অভিনয়ের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন নানা পাটেকর। আর জীবনের শেষদিকে এসে তার নিজের কথাতেই যেন ধরা পড়েছিল সেই দীর্ঘ পথচলার আক্ষেপ, অন্যের চরিত্র হয়ে বাঁচতে বাঁচতে নিজের জন্য বেঁচে ওঠার সময় আর হয়ে ওঠেনি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন