প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা স্মরণীয় অধ্যায়। এর মধ্যে অন্যতম রজনীকান্ত অভিনীত তামিল সিনেমা কালা। ২০১৮ সালে পা. রঞ্জিত পরিচালিত সিনেমাটিতে রজনীকান্তের বিপরীতে খলনায়ক হরিদেব অভয়ংকর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নানা। তীব্র অভিনয় ও পর্দায় উপস্থিতির কারণে চরিত্রটি সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
তবে মজার বিষয় হলো, শুরুতে কালায় অভিনয় করতে রাজি ছিলেন না নানা পাটেকর। খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে শুরুতে তার কিছুটা দ্বিধা ছিল। চরিত্রটি নিয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি সিনেমাটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। তবে রজনীকান্ত নিজেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চরিত্রটি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলেন। সিনেমার প্রি-রিলিজ অনুষ্ঠানে নানা জানান, রজনীকান্তের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।
এমনকি রজনীকান্ত নাকি বিনয়ের সঙ্গে তাকে বলেছিলেন, আপনি যখন অভিনয় করবেন, তখন পর্দায় কেউ আমার দিকে তাকাবে না। রজনীকান্তের এমন মন্তব্যকে মিষ্টি ও আন্তরিক আচরণ হিসেবে দেখেছিলেন নানা। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই শেষ পর্যন্ত সিনেমাটিতে অভিনয়ে সম্মতি দেন তিনি।
কালার পরিচালক পা. রঞ্জিতও হরিদেব অভয়ংকর চরিত্রের জন্য নানা পাটেকরকেই চেয়েছিলেন। প্রবীণ এই অভিনেতার অভিনয় ও পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতির প্রতি পরিচালকের বিশেষ আস্থা ছিল। রজনীকান্তের বিপরীতে এমন একজন অভিনেতার প্রয়োজন ছিল, যিনি তারকা অভিনেতার উপস্থিতির সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিতে পারবেন। সেই জায়গা থেকেই নানাকে বেছে নেওয়া হয়। রজনীকান্তও নানাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এর আগে নিজের সিনেমার স্মরণীয় খলনায়ক অ্যান্টনি বাশা ও নীলাম্বরী পদাইয়াপ্পা-এর মতো শক্তিশালী চরিত্রের সঙ্গে কালার প্রতিপক্ষ চরিত্রটির তুলনা করেছিলেন তিনি।
কালা সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ঈশ্বরী রাও, হুমা কুরেশি, সামুথিরাকানি, অঞ্জলি পাতিল ও পঙ্কজ ত্রিপাঠী। এই সিনেমার শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকরের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। পরে এক সাক্ষাৎকারে পঙ্কজ জানিয়েছিলেন, নানা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তার মতো প্রতিভাবান একজন অভিনেতা কেন এত ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হয়েছেন। নানা তাকে আরও শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
রজনীকান্তের ব্যক্তিগত অনুরোধে নানা পাটেকরের কালায় যোগ দেওয়া শেষ পর্যন্ত তামিল সিনেমার দুই শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীর একটি স্মরণীয় সহযোগিতায় পরিণত হয়। নানা পাটেকরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবেও থেকে গেছে এই সিনেমা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া








মন্তব্য