নিখোঁজ ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা রয়েই গেল অভিনেত্রী নাসিমা খানের

নিখোঁজ ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা রয়েই গেল অভিনেত্রী নাসিমা খানের

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছোট ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান। কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশলের কোনো খোঁজ না পেয়ে বুকভরা কষ্ট নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন…

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছোট ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান। কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশলের কোনো খোঁজ না পেয়ে বুকভরা কষ্ট নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি। ছেলেকে শেষবারের মতো একনজর দেখার আকুতিও পূরণ হলো না তার।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

ছোট ছেলের মতো বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমানের সঙ্গেও জীবনের শেষ সময়ে দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শাবাব মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে দেশে ফিরছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ অক্টোবর দেশে পৌঁছে মায়ের জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নাসিমা খানের মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বড় ছেলে দেশে ফেরার পর তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকায় বসবাস করতেন নাসিমা খান। ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে।

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে একসময় দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন নাসিমা খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। পর্দার সেই পরিচিত মুখ জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে বেড়িয়েছেন গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।

ছোট ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তার জীবনের শেষ সময়গুলোকে আরও বেদনাবিধুর করে তোলে। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনেছেন তিনি। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হলো না।

ছেলেকে একবার দেখার আকুতি, প্রিয়জনদের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা হওয়ার অপূর্ণতা আর বুকভরা বেদনা নিয়েই শেষ হলো নাসিমা খানের জীবনের পথচলা।

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন