সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
বর্তমান উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি, শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতি অব্যাহত
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি · চট্টগ্রাম
প্রকাশ:
আন্দোলন থামছে না চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অবস্থানে অনড়। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে ফেরার কথা জানানোর পর শিক্ষার্থীরা আরও কড়া কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শিক্ষক সমিতিও কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর প্রশাসনিক ভবন ছেড়ে হাসপাতালে যান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। বুধবার তিনি ফের ক্যাম্পাসে আসার ইচ্ছার কথা জানান। কিন্তু আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তিনি ফেরার চেষ্টা করলে নতুন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা বসে। সভার পর সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চলছে।
সামিউন বাসির বলেন, শুক্রবার থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পূজার ছুটিতে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সরকার উদ্যোগী হয়ে সংকট মেটাবে বলে তারা আশা করছেন। বর্তমান উপাচার্যের ক্যাম্পাসে ফেরার কথা নিয়ে শিক্ষক সমিতি কোনো মন্তব্য করেনি বলেও তিনি জানান।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত শাটডাউন চলবে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে তারা আশা করেন। পূজার ছুটির পর তারা ক্লাসে ফিরতে চান। তবে বর্তমান উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফেরার উদ্যোগ নিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলে ওই শিক্ষার্থী জানান।
বিজ্ঞাপন
চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি, উপাচার্যের ক্যাম্পাস ছাড়া এবং তাঁকে বের হতে দেওয়ার সময় আরোপ করা শর্ত নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। ‘চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে’ নামে দেওয়া এই বিবৃতিতে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট মেটাতে হবে সত্যতা যাচাই, জবাবদিহি এবং সংশ্লিষ্ট সবার আস্থার ভিত্তিতে। পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানের সময় ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল। জরুরি ওষুধ লাগলে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য, ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা ভিন্ন তথ্য যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখার আহ্বান জানান তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, উপাচার্য অসুস্থ জেনে মানবিক বিবেচনায় তাঁকে চিকিৎসা ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে উপাচার্যসহ অন্যদের নিরাপদে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে এটিকে আন্দোলনের দাবি থেকে সরে আসা কিংবা উপাচার্যের নেতৃত্ব মেনে নেওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ক্যাম্পাস ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার আগে উপাচার্যকে আর না ফেরার শর্ত জানানো হয়েছিল। তাঁদের দাবি, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানানো হলে তারা সম্মতি দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে যান। পরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমের সামনে তিনবার ওই শর্তের কথা স্পষ্ট করে বলেন। তখন উপাচার্য কিংবা তাঁর সঙ্গীরা কোনো আপত্তি করেননি বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, উপাচার্য আবার ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে। আসল ঘটনা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমে ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তারা।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে না মানার অবস্থান আবারও জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবি একটাই: অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবি আদায়ে শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন চলবে।
আন্দোলনকারীরা একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। তাদের মতে, সংকট মেটাতে এমন পদক্ষেপ দরকার, যাতে সংঘাত না ঘটে এবং কারও চিকিৎসা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস ছেড়ে যান।