ইরানে আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আশঙ্কার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে সাতটি জাহাজে আগুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
ইরানে ফের হামলা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, অতীতে ইরানের ওপর তিনি ‘নরক’ নামিয়ে এনেছিলেন এবং এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না। মানুষ হয়তো আমার এই পদক্ষেপ পছন্দ করছে না। কিন্তু অনেক মানুষ, দেশপ্রেমিকেরা এটি সমর্থন করছেন। আগের প্রেসিডেন্টদের এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। আমরা ইরানের ওপর নরক নামিয়ে এনেছিলাম। আরও কিছুটা কঠোর হতে পারি।’
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছেন। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েলকে যুক্ত করার ছক কষা হয়েছে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি নিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের অসন্তোষের মুখে আপাতত ট্রাম্প কিছুটা সংযত রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, হামলা চালানো হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, ডেটা সেন্টার, সমুদ্রতলের ডেটা কেব্ল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এছাড়া ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদি বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু নতুন হামলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এবার হামলা হলে ইরান সেটিকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করবে। তেহরানের নতুন রণকৌশলে কোনো সীমারেখা বা রেডলাইন থাকবে না। এ কারণে যুদ্ধ শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হবে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে গত বৃহস্পতিবার এক রাতেই সাতটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের তথ্যমতে, এর মধ্যে তিনটি জাহাজ নৌ-মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাকি চারটি জাহাজে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরান দাবি করেছে, জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। আইআরজিসির নতুন নীতি অনুযায়ী, ইরানের ওপর কোনো প্রকার সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করা হলে তা যুদ্ধের শামিল হিসেবে গণ্য করা হবে।