প্রতিদিন একই কাঁধে ব্যাগ বইলে শরীরে যে সমস্যা হতে পারে
ব্যাগের ওজন, বহনের সময় ও শরীরের ভঙ্গির ওপর নির্ভর করে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের চাপ কতটা বাড়বে
লাইফস্টাইল ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে নেওয়া প্রতিদিনের অভ্যাস। অফিসের ল্যাপটপের ব্যাগ হোক বা বাজার করার ঝোলা, অনেকেই সুবিধার জন্য রোজ একই কাঁধে ব্যাগ বহন করেন। শুরুতে তেমন কোনো অস্বস্তি না হলেও অভ্যাসটি দীর্ঘদিন চললে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে। ব্যাগ ভারী হলে বা অনেকক্ষণ বহন করতে হলে সমস্যার আশঙ্কা আরও বাড়ে।
বিজ্ঞাপন
এক পাশে ব্যাগের ভার পড়লে শরীরকে ভারসাম্য ধরে রাখতে নিজের ভঙ্গি বদলাতে হয়। অনেক সময় ব্যাগ সামলাতে গিয়ে কাঁধ ওপরের দিকে উঠে যায়, শরীরও একদিকে কিছুটা হেলে পড়ে। এতে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে অসম চাপ তৈরি হতে পারে।
অনেকক্ষণ এভাবে চলাফেরা করলে পেশিতে ক্লান্তি জমে। ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে টান, পিঠের ওপরের অংশে অস্বস্তি বা পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁরা নিয়মিত ভারী ব্যাগ বহন করেন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন কিংবা আগে থেকেই ঘাড়-কাঁধের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের অস্বস্তি বেশি হতে পারে।
তবে এক কাঁধে ব্যাগ নিলেই মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি হবে, এমন নয়। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যাগের ওজন, কতক্ষণ বহন করা হচ্ছে এবং শরীরের ভঙ্গির ওপর।
ব্যাগ বহনের অভ্যাস বদলাতে কিছু নিয়ম মানা যেতে পারে। ১. ব্যাগ হালকা রাখুন: প্রতিদিন ব্যাগে কোন কোন জিনিস নিচ্ছেন, তা একবার দেখে নিন এবং যেসব জিনিসের প্রয়োজন নেই, সেগুলো বাদ দিন। অকারণে বাড়তি ওজন না বওয়াই ভালো।
বিজ্ঞাপন
২. পিঠের ব্যাগ হলে দু’টি স্ট্র্যাপ ব্যবহার করুন: ব্যাকপ্যাক নিলে দুই কাঁধেই স্ট্র্যাপ পরতে হবে। এতে ভার তুলনামূলক সমানভাবে দুই কাঁধে ভাগ হয়। স্ট্র্যাপ যেন বেশি ঢিলে না থাকে, সেদিকেও নজর রাখুন।
৩. ব্যাগ পিঠের কাছাকাছি রাখুন: ব্যাকপ্যাক খুব নিচে ঝুলে থাকলে ভার সামলাতে শরীরের ভঙ্গি বদলাতে হতে পারে। তাই স্ট্র্যাপ এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে ব্যাগ পিঠের কাছাকাছি থাকে এবং বহন করা সহজ হয়।
৪. এক কাঁধে ব্যাগ নিলে দিক বদলান: হ্যান্ডব্যাগ বা এক কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করলে মাঝেমধ্যে কাঁধ বদলে নিন। তবে শুধু কাঁধ বদলালেই চলবে না, ব্যাগের ওজন কম রাখাও জরুরি।
৫. ঘাড় ও পিঠের পেশির যত্ন নিন: নিয়মিত হাঁটাচলা এবং শরীরের উপযোগী ব্যায়াম পেশিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। অনেকক্ষণ বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে নড়াচড়া করুন। ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা ফিজিয়োথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
বিজ্ঞাপন
ব্যাগ বহনের পর ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে প্রথমে ব্যাগের ওজন কমানো ও বহনের পদ্ধতি বদলানোর চেষ্টা করা যায়। কিন্তু ব্যথা অনেক দিন থাকলে, ধীরে ধীরে বাড়লে, হাত অবশ হয়ে এলে বা দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
ব্যাগ বইতে গিয়ে কোন কাঁধ ব্যবহার করা হচ্ছে, শুধু সেটাই বিবেচ্য নয়। ব্যাগের ওজন, বহনের সময় ও শরীরের ভঙ্গিও সমান জরুরি। ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো সম্ভব।