ভারতের সাথে যেকোন প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে আত্মঘাতি

ভারতের সাথে যেকোন প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে আত্মঘাতি

আজ ২৫ জুলাই ২০২২ সোমবার নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন এক বিবৃতিতে ভারতের সাথে ৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় (এলওসি) চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, কোন পূর্ণ মন্ত্রী নয় একজন কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো অসম্মানের, লজ্জাজনক ও মর্যাদাহানিকর। বাংলাদেশে তিনি নির্বাচিত কিনা তা আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন কিন্তু দেশের পতাকা বহন…

আজ ২৫ জুলাই ২০২২ সোমবার নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন এক বিবৃতিতে ভারতের সাথে ৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় (এলওসি) চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, কোন পূর্ণ মন্ত্রী নয় একজন কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো অসম্মানের, লজ্জাজনক ও মর্যাদাহানিকর। বাংলাদেশে তিনি নির্বাচিত কিনা তা আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন কিন্তু দেশের পতাকা বহন করে যখন বিদেশ সফর করেন তখন তাঁর প্রটোকলে দেশের সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্ন জড়িত।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয় অধিকতর গুরত্বহীন প্রতিমন্ত্রীর অভ্যর্থনার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যাখ্যা দাবি করছি।  তিনি বলেন, এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা উজানের টিপাইমুখ বাঁধে আটকে রাখা পানি ছেড়ে ভারত বন্যায় ভাসিয়ে দেয়ার নির্মম অভিজ্ঞতা আমাদের পীড়া দিচ্ছে। যখন এক অঞ্চল বন্যায় ভাসছিল তখন ফারাক্কা—তিস্তা করাল গ্রাসে শুকিয়ে কাষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক হাহাকার করছিল পানির জন্য।  

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের পূর্বের বছরের সফরটি ‘রাষ্ট্রীয় না রাজনৈতিক’ তা আমাদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে। কিছুদিন আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে যা যা করা দরকার তা করতে ভারতকে অনুরোধ করেছেন বলে ‘থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে’। এই সফরে স্বাধীনতার স্বপ্ন জনগণের ভোটাধিকার হরণের আশঙ্কা পুনরায় দেখা দিয়েছে বলে আমরা শঙ্কিত।  মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ২০১৭ সালের ৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় চুক্তি (এলওসি) বাতিল করতে হবে।

৬৫ শতাংশ ভারতীয় অস্ত্র ক্রয় অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ ভারতের পূর্ব অনুমোদনক্রমে অস্ত্র ক্রয় বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি। ভারত বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র আমদানি চুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশলে ভারত আমাদের সম্মুখ চ্যালেঞ্জ। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র আমদানি করে আমরা কি ভিনগ্রহের এলিয়েনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আর্মেনিয়া আজারবাইজানের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের জন্য ভারতীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহারকে দায়ী করছে আর্মেনিয়ার জনগণ।

ভারতের সাথে যেকোন ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আত্মঘাতি।    তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, সীমান্ত হত্যা এবং সার্বভৌমত্ব লংঘন বন্ধ, ফেলানী হত্যার বিচার, বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়—প্রশিক্ষণ—অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ, অস্ত্র—মাদক চোরাচালান বন্ধ, গণমাধ্যমে গোপন বিনিয়োগ বন্ধ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ করতে দিল্লী—ঢাকা কার্যকর ঘোষণাই এই সফরে আমাদের প্রত্যাশা।

পত্রিকা একাত্তর / এয়াকুব শরীফ​​​​​​​

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন