বেরোবি দুই শিক্ষকের পাল্টা পাল্টি অভিযোগ

বেরোবি দুই শিক্ষকের পাল্টা পাল্টি অভিযোগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ব্যাকডেট ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দুই শিক্ষক রেজিষ্টারকে  পাল্টা-পাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সোমবার (২৯ আগষ্ট) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের  বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানীকে অভিযুক্ত করে  তার সহকর্মী সহকারী অধ্যাপক মোঃ মনিরুজ্জামান রেজিষ্টারকে একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেন। মনিরুজ্জামান অভিযোগপত্রে বলেন, গত ২৮/০৮/২০২২ তারিখে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব…

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ব্যাকডেট ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দুই শিক্ষক রেজিষ্টারকে  পাল্টা-পাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সোমবার (২৯ আগষ্ট) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের  বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানীকে অভিযুক্ত করে  তার সহকর্মী সহকারী অধ্যাপক মোঃ মনিরুজ্জামান রেজিষ্টারকে একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেন।

মনিরুজ্জামান অভিযোগপত্রে বলেন, গত ২৮/০৮/২০২২ তারিখে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্মানিত বিভাগীয় প্রধান জনাব মোঃ গোলাম রব্বানী আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি কখনোই আমার কোন সম্মানিত সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাইনি।

তিনি যেহেতু আমার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন, তাই বাধ্য হয়ে আমাকে উক্ত ঘটনার প্রতিকার পেতে এই পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে। জনাব গোলাম রব্বানী তার , প্রকৃত ঘটনা হলো, আমি আমার কর্মস্থল বেরোবি প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করি এবং গত ২৭/০৬/২০২২ তারিখে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আমার ডিগ্রি অনুমোদন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের  ডিগ্রি স্বীকৃতির জন্য ০৪/০৭/২২ ইং তারিখে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে আপনার বরাবর আবেদন করি। কিন্তু বিভাগীয় প্রধান আবেদনপত্রটি অগ্রগামী না করায় তাকে বারবার অনুরোধ করি। তবুও তিনি সেটি অগ্রগামী করেন নি। এরপর বাধ্য হয়ে গত ২১/০৭/২০২২ তারিখে পুনরায় বিভাগে আবেদনপত্র জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংগ্রহ করি। এর পর থেকেই বিভাগীয় প্রধানকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি সেটি অগ্রগামী করেন নি। 

সর্বশেষ দীর্ঘ এক মাস পর গত ২৪/০৮/২০২২ তারিখে তিনি ২৪/০৭/২০২২ তারিখ দেখিয়ে ব্যাকডেটে আমার আবেদনপত্র অগ্রগামী করেন। ইতোপূর্বে উক্ত পিএইচডি ডিগ্রি চলাকালীন গত ১২/০৬/২০২২ তারিখে মৌখিক পরীক্ষার (ফাইনাল ডিফেন্স) সময় ঘোষণা করা হলে আমি বিভাগ হতে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি ও ফোন করে বিভাগীয় প্রধানের মৌখিক অনুমতি নিয়ে সেটিতে অংশগ্রহণ করি।

তবে সে সময় ডিফেন্সের আগে আমার ব্যস্ততা থাকায় এবং ভুলবশত রেজিস্ট্রার দপ্তর হতে অফিসিয়াল ছুটি গ্রহণ করতে ভুলে যাই। তবে যাওয়ার আগে আমি মাননীয় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করে মৌখিক পরীক্ষায় (ফাইনাল ডিফেন্স) অংশগ্রহণ করতে যাই।

পরবর্তীতে মাননীয় উপাচার্যের পরামর্শক্রমে গত ২৮/০৮/২০২২ তারিখে আমার কাটানো ছুটির ভুতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করি। উক্ত আবেদনপত্রে সুপারিশের জন্য ২৮/০৮/২০২২ তারিখ সকালে বিভাগে বিভাগীয় প্রধানের দপ্তরে গেলে তাকে না পেয়ে সকাল ১০টা হতে সাড়ে ১০টায় তার বাসায় যাই। তার বাসা হতে আমার বাসা কাছাকাছি হওয়ায় আমার স্ত্রী-সন্তানকে সাথে নিয়ে যাই।

উক্ত আবেদনপত্রে সুপারিশ করার জন্য তাকে অনুরোধ করা হলে তিনি তা করতে অস্বীকার করেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি আপনার দপ্তরে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে পেশাগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেন। এমনকি উক্ত মিথ্যা অভিযোগের কপি তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সরবরাহ করে প্রচারের মাধ্যমে আমার সম্মানহানি করে চলেছেন। 

অভিযোগ পত্রে তিনি আরো জানান,   সার্বিক ঘটনা পর্যালোচনা করে আমার মনে হয়েছে বিভাগীয় প্রধান জনাব গোলাম রব্বানী কোনক্রমেই আমার এ পিএইচডি ডিগ্রিকে মেনে নিতে পারছেন না। সেই সঙ্গে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করে আমার পিএইচডি ডিগ্রির স্বীকৃতি এবং সামনে আমার সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে   বিভাগীয় প্রধানের (প্রক্টরের) বিরুদ্ধে   প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেজিষ্টারকে অনুরোধ জানানো হয়। উল্লেখ্য, রবিবার (২৮ আগষ্ট) ব্যাক ডেটে ছুটির আবেদনপত্রে স্বাক্ষর না করায় বেরোবি  প্রক্টরকে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করেন তারই এক সহকর্মী ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ মনিরুজ্জামান।

তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন প্রক্টর ,একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। এ বিষয়ে রেজিষ্টার পত্রিকা একাত্তর কে বলেন,দুজনেই  বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত  শিক্ষক। আমি বিষয়টি ভিসি স্যারকে অবহিত করবো।

পত্রিকাএকাত্তর / ফারহান সাদিক

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন