স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও নজিরবিহীন এক দিনে লা লিগা তাদের নতুন প্রতিনিধি (ডেলিগেটস) কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই কমিটি দেশটির ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং গোপনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ। রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগা সভাপতি হাভিয়ার তেবাসের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ঘোষণা সামনে এলো।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লা লিগার এই ঘোষণাটি আসে রিয়াল ও লিগা প্রেসিডেন্টের বাদানুবাদের কয়েক ঘণ্টা পর। লা লিগা প্রধান তেবাস রিয়াল মাদ্রিদ টিভি চ্যানেলের সংবাদ পরিবেশনার নীতিকে নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের বিতর্কিত প্রচার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেন। জবাবে রিয়াল মাদ্রিদ এক কড়া আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়ে অবিলম্বে তেবাসকে লা লিগা সভাপতির পদ এবং স্পেনীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানায়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, নতুন কাঠামোতেও তাদের বিতর্কিত সদস্যপদ ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রধান নির্বাহী মিগেল আনহেল হিল মারিন প্রথম সহ-সভাপতি হিসেবে নিজ পদে বহাল রয়েছেন।
তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল বার্সেলোনার আকস্মিক প্রত্যাবর্তন। লা লিগা পরিচালনার ধরণ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে দুই বছর আগে হুট করেই কোনো আগাম বার্তা ছাড়া এই কমিটি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল কাতালান ক্লাবটি।
প্রতিনিধি কমিটি নিছক আনুষ্ঠানিকতার কোনো জায়গা নয়। এটি হলো লা লিগার আসল ‘সিদ্ধান্ত তৈরির ঘর’ (কিচেন)। সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই যেকোনো কৌশলগত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ এখান থেকেই নেওয়া যায়।
লা লিগার ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের জন্ম হয়েছিল এই ঘরেই। যার মধ্যে রয়েছে ‘ইম্পুলসো’ পরিকল্পনা এবং বিতর্কিত ‘সিভিসি’ (CVC) বিনিয়োগ তহবিলের চুক্তি। এছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (FFP) নীতিমালার যেকোনো সংশোধনীও প্রথম উত্থাপিত ও আলোচিত হয় এই বৈঠকেই।
নতুন এই গঠনপ্রণালীকে কার্যত একটি ‘যুদ্ধকালীন পরিষদ’ বলা চলে, যা ফুটবলের সব কটি দৃশ্যমান দ্বন্দ্বকে এনে দাঁড় করিয়েছে একটি মাত্র টেবিল বা ঘরে।
প্রথমত, তেবাস ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার সরাসরি সংঘাত, যা চরম রূপ নিয়েছে। অবশ্য রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নিজে উপস্থিত না থেকে ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাচ্ছেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বেগোনিয়া সানজকে।
দ্বিতীয়ত, বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের নতুন টানাপোড়েন, যার মূলে রয়েছে গত দলবদল মৌসুমে জুলিয়ান আলভারেজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক। আর এসবের মধ্যেই আবার লা লিগা সভাপতি তেবাসের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে বার্সেলোনা।
কমিটিতে আরও রয়েছে সেভিয়া, আলাভেস, ভিয়ারিয়াল এবং এইবার। তাদেরকে মূলত তেবাসপন্থী শিবির হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে দ্বিতীয় বিভাগের বাকি প্রতিনিধিদের নাম এখনো নির্ধারিত হয়নি।








মন্তব্য