আবাসন সংকটে চাপে স্পেনের সানচেজ সরকার

আবাসন সংকটে চাপে স্পেনের সানচেজ সরকার

আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের দুটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার স্পেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সরকারের দুটি আবাসন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রস্তাব দুটি পাস করাতে শেষ…

আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের দুটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার স্পেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সরকারের দুটি আবাসন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রস্তাব দুটি পাস করাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করেও প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।

স্পেনে বাড়ি ভাড়া ও আবাসনের সংকট মোকাবিলায় এসব প্রস্তাব আনা হয়েছিল। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সপ্তাহান্তে মন্ত্রী ও নিজের দল সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএসওই) জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন সানচেজ। এরপর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সরকার চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

দুর্বল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নানা সংকট

সানচেজের জোট সরকার গত কয়েক মাস ধরে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সমস্যায় পড়েছে। সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে দুর্নীতির কয়েকটি মামলা এবং উত্তর আফ্রিকার স্পেনীয় অঞ্চল সেউতায় অভিবাসন সংকট।

জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে কয়েক হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের পর সরকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়তা পাঠায়।

কয়েক সপ্তাহ পর স্পেন সরকার প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করে। এ ঘটনায় সরকারের অভিবাসননীতি ও মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

বিরোধী কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি (পিপি) এবং কট্টর ডানপন্থি ভক্স সরকারের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেরি করার অভিযোগ তোলে। তবে সানচেজ নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে সানচেজের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে ঘিরে দুর্নীতির মামলা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকারকে আইন পাস করাতে প্রায় প্রতিটি ভোটের আগে জোটসঙ্গী ও অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানচেজ।

তথ্যসূত্র: ইউরোনিউজ

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন