দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত আদালতের রায়ের প্রতিবাদে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশটির দুটি শহরে বিক্ষোভকারীরা অন্তত ২৪টি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন এবং বিদেশিদের মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গের সোয়েতো টাউনশিপ এবং পূর্ব উপকূলীয় বন্দরনগরী ডারবানে এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, জোহানেসবার্গে ১০টি এবং ডারবানে ১৪টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা শরণার্থী কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালতের গত জুলাইয়ের একটি রায়, যার ফলে আশ্রয়ের আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা দূর হয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদকের দেখা অনুযায়ী, সোয়েতোতে স্থানীয় বাসিন্দারা সোমালিয়ার এক নাগরিকের মালিকানাধীন বলে দাবি করা একটি দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরিয়ে নিচ্ছিলেন। তারা ওই দোকানমালিককে তাড়িয়ে দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখান থেকে সরে যান।
অন্যদিকে, ডারবানের নগরকেন্দ্রে গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। সেখানে বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটেও লুটপাট চালানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদকেরা জানিয়েছেন, বিদেশিদের পরিচালিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত জাতীয় পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং দিমপানে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান। ডারবানে সহিংসতার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত আদালতের রায় নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্যকে সহিংসতার জন্য দায়ী করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার।
বৃহস্পতিবার অভিবাসনবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণকারী কার্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের বিষয়টি তুলে ধরে। আদালতের রায় বাস্তবায়নের পর এসব কার্যালয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর আগের দিন কমিটি জানিয়েছিল, নতুন আবেদনের চাপে তাদের সব কার্যালয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
আদালতের ওই রায়ে অনিয়মিতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করা, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট ভিসা না থাকা কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়া ব্যক্তিদের আশ্রয়ের আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা অপসারণ করা হয়েছে।
আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ ও কার্যালয়গুলোর ওপর চাপ মোকাবিলায় সরকার যখন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আলজাজিরা








মন্তব্য