ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কীভাবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে রিয়াদে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাটি প্রতিহত করতে না পারার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা।
সোমবার ওই কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রথমে ঝাঁকে ঝাকে ড্রোন ছোড়ে হুতিরা। এর মাধ্যমে রিয়াদের দিকে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর পথ তৈরি করা হয়। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য জানান, কারণ প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি তাদের নেই।
হুতিদের কাছে এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে সৌদি আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এক কর্মকর্তা জানান, হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা কেন দেওয়া যায়নি, সেটিও তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ৬২০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়লে দ্রুত ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলায় অংশ নিলে তাদের এবং অঞ্চলটিতে থাকা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখাইতি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করব না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলে তাদের সব স্বার্থকে লক্ষ্য করে দ্রুত ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।’
একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বুখাইতি বলেন, ‘এসব স্থাপনা এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।’
সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বুখাইতি বলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বার্তা দেওয়া যে তিনি আর নিরাপদ অবস্থানে থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে পারবেন না।
সূত্র : সিবিএস নিউজ








মন্তব্য