আর না ফেরার শর্তে পুলিশি পাহারায় চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য
অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধারে ক্যাম্পাসে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার; তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয়
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি · চট্টগ্রাম
প্রকাশ:
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। এরপর পুলিশের নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার জন্য উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাঁকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা করেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’
ওই শিক্ষার্থীর পাশে তখন জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। এর মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে ঢোকার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছেন। এরপর তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তখন থেকে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে চুয়েটে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা চলছে। ওই দিন থেকেই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে তাঁরা মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।
অন্যদিকে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে ঢোকেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। জেলা প্রশাসক তখন বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
বিজ্ঞাপন
এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে উপাচার্যকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তাঁকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।