রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমবে
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি · রাজবাড়ী
প্রকাশ:
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বুধবার রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ নেমে গেছে। এই সভা জেলা প্রশাসনের আয়োজনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এবং রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির ফলে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ নিতে হচ্ছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার ফলে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে, এবং যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিনি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল, তবে পূর্বের সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন এবং গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতীতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে এবং তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে; বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও জানান, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো দরকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২০ শয্যা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছিল; এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।