ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের অভিযোগে মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
সিলেট জেলা প্রতিনিধি · বিশ্বনাথ, সিলেট
প্রকাশ:
সিলেটের বিশ্বনাথের বাসিন্দা মামুন আহমেদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশের অভিযোগে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্বনাথের সাতপাড়া এলাকার কাজী রায়হান (৫৬) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, মামুন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম, মুসলমান এবং পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিতর্কিত ও সমালোচনামূলক পোস্ট প্রকাশ করে আসছেন। এসব পোস্টের কারণে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামুন আহমেদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি প্রোফাইল থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসংবলিত পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১২ মার্চ, ১৪ মার্চ ও ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখেও ধর্ম ও পবিত্র কোরআন নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব পোস্টে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে বলে বাদীর দাবি।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদও করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইসলাম ও কোরআনবিরোধী পোস্টের প্রতিবাদে স্থানীয়ভাবে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশের খবর অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাদীর অভিযোগ, প্রতিবাদ ও সমালোচনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট প্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় আদালতে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মামলার নথিতে অভিযুক্ত মামুন আহমেদের ঠিকানা হিসেবে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সাতপাড়া এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাবা খালিছুর রহমান বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, মামলার নথিতে অভিযোগগুলোর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের কপি এবং প্রতিবাদ সমাবেশসংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।