কার্যকরের আগেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প
নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট; ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বেয়ারের তীব্র সমালোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরোপের কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক দিন আগেই স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে আছে রাশিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক এবং দেশটি থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি আইনের অধীনে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আইনটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এর মূল সমর্থক ছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। আইনের বিধান অনুযায়ী, জারির ৩০ দিনের মধ্যে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের ওপর এবং ৩০ দিন পর জেনেবুঝে তেল-গ্যাস কেনা বা রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যেত।
প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বা তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘পরবর্তী পদক্ষেপ উপযুক্ত’ বলে মনে না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। আদেশে ট্রাম্প জানান, তিনি কংগ্রেসে প্রত্যয়ন জমা দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে এই মুহূর্তে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ।
আইনটি প্রণয়নের প্রেক্ষাপট ইউক্রেন যুদ্ধ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের মনোভাব তুলনামূলকভাবে নমনীয় হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন তিনি, এমনকি কিয়েভের নতুন নেতৃত্ব দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন।
সিদ্ধান্তের সময়টিও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা ইতোমধ্যেই বাড়তি জীবনযাত্রার খরচের মুখে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বেয়ার। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প মূলত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন। এক বিবৃতিতে বেয়ার বলেন, পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণ আবারও ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের শাস্তি দিতে প্রণীত আইনের স্পষ্ট সংসদীয় উদ্দেশ্যকে অমান্য করেছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে একটি ডিজেল চুক্তির কারণেও ট্রাম্প বেশ কয়েকজন মার্কিন সিনেটরের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকানও আছেন। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ওই চুক্তিতে ট্রাম্প রুশ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলতে রাজি হন, আর রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়। সমালোচক আইনপ্রণেতারা তখন বলেছিলেন, এই চুক্তি রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলেই সহায়তা করবে।