কেবল বাসে রং করা রুট রেশনালাইজেশন নিশ্চিত করতে পারে না
বিএনপি সরকারের পদক্ষেপে ছয় রুটে নতুন বাস রেজিম শুরু, তবে পুরোনো বাস রঙ করা মাত্র
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি ও রুট রেশনালাইজেশন সারা বিশ্বের গণপরিবহনের জন্য পরীক্ষিত মডেল, তবে বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর এই ব্যবস্থা ঢাকা শহরে বারবার ব্যর্থ হয়েছে; বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে কোম্পানি ভিত্তিক বাস চালুর ব্যর্থ প্রচেষ্টার অভিজ্ঞতা এ বিষয়ে স্পষ্ট করে দেয়।
বিজ্ঞাপন
প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়া এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, ফলে পুরোনো ও লক্কড়ঝক্কড় বাসে নতুন রং করে রাস্তায় নামানো হয়েছে—এটি না করলে কেন রঙ করা বাসকে সড়কে নামানো হবে? যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করেন, ঢাকা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিকল্প হিসেবে কোম্পানি ভিত্তিক বাস ছাড়া আর কিছু নেই।
গত কয়েক দশকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাকা শহরে প্রায় ৪০০টি রুটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; ঢাকা মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মূল সড়কে প্রায় চার হাজার মালিকের আট হাজার বাস চলাচল করে, যার ফলে পুরো ঢাকা এখন বাসস্টপে পরিণত হয়েছে এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা, রেষারেষি ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোম্পানি ভিত্তিক বাস চালু, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বাতি ও এআই ক্যামেরা বসানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কিনা তা এখনও বড় প্রশ্ন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) গত রবিবার ছয় রুটে কোম্পানি ভিত্তিক বাস চালু করেছে, তবে আগের উদ্যোগের মতোই এইবারও প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা সরেজমিন সড়কের চিত্র বর্ণনা করেন, যেখানে পুরোনো বাস রঙ করে সড়কে নামানো হয়েছে; বাসগুলো মাঝখানে থামে, যাত্রী ওঠা-নামা করে, কোনো টিকিট কাটার বুথ নেই এবং চালক ও সহকারীদের আচরণে কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।
বাস রুট রেশনালাইজেশনের মূল ধারণা হল নির্ধারিত স্থানে থামা, নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে টিকিট স্পর্শ করা এবং জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন বাস না নামিয়ে এবং কারিগরি প্রস্তুতি না নিয়ে শুধু বাস রঙ করে সড়কে নামিয়ে দিলেই কি রেশনালাইজেশন সফল হবে? যদি যাত্রীরা কোনো পরিবর্তন না দেখেন, তবে এই ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু হবে?
সড়কে নৈরাজ্য, প্রাণহানি ও যানজট সমস্যা সমাধানে ঢাকায় কোম্পানি ভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিকল্প নেই; ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা সহ বিশ্বের বহু শহরে এই ব্যবস্থা কার্যকর, এবং আমাদের দেশীয় যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের পর্যাপ্ত ধারণা ও জ্ঞান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৈদেশিক অভিজ্ঞতা ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের কারিগরি জ্ঞান সমন্বয় করলে এই ব্যবস্থা সফল হতে পারে; তবে সরকারের বিনিয়োগ, উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা অবশ্যই প্রয়োজন।