নিজের জীবনে পরিবর্তন দেখতে চান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণী প্রথমা সিংহ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি · হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
প্রকাশ:
দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রথমা সিংহ। তার কাছে পরিবর্তনের প্রকৃত মাপকাঠি হলো পড়াশোনা শেষে যোগ্য অনুযায়ী কাজ পাওয়া, নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করা এবং রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করতে পারা। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থাকলেও একজন নারী হিসেবে সেই পথ কতটা সুগম, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
বিজ্ঞাপন
জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং প্রশ্ন করার প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রথমা বলেন, “বড়দের কথা শুনব, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকেও শিখব। তবে কোনো কিছু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলেই তা বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে হবে কেন? যে নিয়ম মানুষের অধিকার সংকুচিত করে, যে আচরণ কাউকে ছোট করে, সেগুলো বদলানোর কথা বলতেই হবে।”
রাজনীতির ক্ষেত্রে তার প্রত্যাশা হলো, সাধারণ মানুষের মতামতের গুরুত্ব থাকা এবং ভিন্নমতের মানুষের প্রতি সহনশীল আচরণ করা। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল দৈনন্দিন জীবনে পৌঁছানো প্রয়োজন এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, নিজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের মত শোনার ধৈর্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ করা নতুন প্রজন্মের কর্তব্য।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পড়াশোনার ব্যয়ভার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, যাতায়াত, খাবার ও প্রযুক্তির খরচ একজন শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রথমা বলেন, “শিক্ষার সুযোগ বলতে শুধু ভর্তির সুযোগ বুঝলে চলবে না, পড়াশোনা শেষ করার সামর্থ্যও থাকতে হবে।” এ ছাড়া সনদের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং চট্টগ্রামে থেকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও চলাফেরা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ভোগেন। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে মেয়েদের চলাফেরার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। প্রথমা বলেন, “নিরাপদ থাকার জন্য একজন নারীকে প্রতিনিয়ত নিজের পোশাক, সময় বা গন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন?”
বিজ্ঞাপন
নারীর হয়রানির ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমি চাই অভিযোগ জানাতে গিয়ে কোনো নারীকে যেন উল্টো অপমানিত হতে না হয়।” এ ছাড়া তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পারিবারিক পর্যায়ে দায়িত্বের সমবণ্টন এবং কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুবিধার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এছাড়া চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিসর বাড়ানো এবং সেখানে মেয়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে প্রথমা সিংহ বলেন, “আমি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একজন তরুণীকে ভয় ও বাধার হিসাবই আগে কষতে হবে না।”