ময়মনসিংহে ভবনের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল, বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা
অপরিকল্পিত নগরায়ণে বাড়ছে যানজট ও ঝুঁকি, নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি · ময়মনসিংহ
প্রকাশ:
ময়মনসিংহ শহরে একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠলেও বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা। বর্তমানে শহরটিতে ৫০ হাজারের বেশি ভবন রয়েছে, যার ফলে জনবসতি ও যানবাহনের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রতিদিন তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে, যেখানে পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগছে। এছাড়া নাগরিক ভোগান্তির পাশাপাশি শহরটিতে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
১৭৮৭ সালে গোড়াপত্তন হওয়া ময়মনসিংহ ১৮৬৯ সালে পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৫ সালে বিভাগীয় শহর এবং ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পায় এই শহর। বর্তমানে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই শহরে নগরায়ণের গতি বাড়লেও পরিকল্পিত অবকাঠামো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। শহরের গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া মোড়, নতুনবাজার ও পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় যানজটের সমস্যা সবচেয়ে প্রকট।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শহরে এক থেকে সাততলা পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৫৭১টি ভবন ছিল এবং সাততলার বেশি ভবন ছিল ২৭০টি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত এক থেকে সাততলা পর্যন্ত নতুন ৪ হাজার ৯৩৯টি ভবন হয়েছে এবং ৮তলা থেকে ২২তলা পর্যন্ত আরও ৫৩টি ভবন নির্মিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত এক থেকে সাততলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৯৯৫টি এবং আটতলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৭৯টি। বর্তমানে শহরে এক থেকে সাততলা পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ৫৬৫টি এবং ৮ থেকে ২২তলা পর্যন্ত ৪০২টি ভবন রয়েছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর-পরিকল্পনাবিদ মানস কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের সীমিত জনবল দিয়েই তদারকি করছি। কিন্তু এখানকার মানুষের সমস্যা হলো জোর করেও কাউকে নিয়ম মানানো যায় না।’
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান জানান, তিনি ছয় মাসের কিছু বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শহরের আর যাতে ক্ষতি না হয় সেই চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘একটি বহুতল ভবন যদি অন্যায়ভাবে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নির্মাণের সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এখন উচ্ছেদ অভিযান চালানো বা ভবনটি ভেঙে ফেলা অমানবিক হবে।’ তবে নতুন ভবনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যমান সড়কগুলো প্রশস্ত করা সম্ভব না হওয়ায় নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নগরায়ণ বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শহর হিসেবে সড়কের প্রশস্ততা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। তারপরও বিদ্যমান সড়কের সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহর হওয়ার পর মাস্টারপ্ল্যান হওয়ার কথা ছিল।’ তিনি আরও বলেন, সড়ক বাড়াতে গেলে অনেক অবকাঠামো ভাঙতে হবে এবং মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সরকার কোনো পরিকল্পনা নিলে তবেই সড়ক প্রশস্ত করা যেতে পারে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের ১৮ জুন যাত্রা শুরু করেছে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে নগরে ভবন নির্মাণের অনুমোদনের দায়িত্ব এই কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং নগরীকে পরিকল্পনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।