ময়মনসিংহে ১০ ছুরিকাঘাতে সেলুনমালিক নিহত, গ্রেপ্তার ১
রবীন্দ্র ঋষির স্ত্রী ও মা হুমকি ও পারিবারিক বিরোধের কথা জানান
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি · ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশ:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় এক ব্যক্তির আক্রমণে সেলুনমালিক রবীন্দ্র ঋষি (৪২) নিহত হন; তার গলা, কণ্ঠনালি, বুক, পিঠ ও হাতে মোট দশটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে এবং এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবীন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ‘অপূর্ব হেয়ার কাটিং’ সেলুনের মালিক ছিলেন; তিনি পাশের জামিরদিয়া এলাকায় নোমান কম্পোজিট ফ্যাক্টরির পাশে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী সুচিত্রা রানী ঋষির সঙ্গে বসবাস করতেন।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পাগলাটে আচরণ করার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন; মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন সাদ্দাম হোসেন (২৮) একই এলাকার বাসিন্দা, তার বাবার একটি মুদি দোকান রয়েছে এবং তিনি মাঝে মাঝে সেখানে বসতেন; আজ দুপুরে তাকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে এবং আদালত ১ নভেম্বর রিমান্ড শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
মৃতের স্ত্রী সুচিত্রা রানী ঋষি জানান, প্রায়ই সাদ্দাম স্বামীর কাছ থেকে নেশার জন্য টাকা নিতেন এবং সেলুনে চুল কাটার পর টাকা দিতেন না; টাকা না দেওয়া এবং চুল কেটে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং কয়েক দিন আগে সাদ্দাম রবীন্দ্রকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মৃতের মা সুলক রানী ঋষি বাদী হয়ে গতকাল রাতে ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দাখিল করেন, যার মধ্যে সাদ্দামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় রবীন্দ্র সেলুনে বসে ভায়রা ভাই মানিক ঋষির সঙ্গে কথা বলছিলেন; সাদ্দাম ধারালো ছুরি নিয়ে সেলুনে প্রবেশ করে রবীন্দ্রের গলায় আঘাত করেন, পরে তিনি পাশের দোকানে আশ্রয় নিলেন যেখানে সাদ্দাম বুকে ছুরিকাঘাত করেন, এরপর পাশের বাড়ির উঠানে গিয়ে মাটিতে ফেলে বুকে, পিঠে ও হাতে অতিরিক্ত ছুরিকাঘাত করে তাকে মৃত করে দিলেন।
ভালুকা মডেল থানা ওসি জানালেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরে উদ্ধার করা হয়েছে; গলা, কণ্ঠনালি, বুক ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যার সংখ্যা দশটির কম নয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে চুল কাটার টাকা নিয়ে রবীন্দ্র ও সাদ্দামের মধ্যে বিরোধ ছিল; সাদ্দাম পূর্বে রবীন্দ্রের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রবীন্দ্রের কাছ থেকে এক হাজার টাকা হাতে খরচের নামে নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত না পাওয়ায় রাগের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি পাগলাটে আচরণ করছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’