ফেসবুক লাইভে মন্তব্য: ভালুকায় নারী ব্যবসায়ীকে থানায় নিল পুলিশ
ব্যবসায় চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করায় ওই নারীকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি · ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশ:
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপি সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক নারী ব্যবসায়ী। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ওই নারীকে হেফাজতে নিয়েছে। গতকাল রোববার রাতে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
আটক ওই নারীর নাম সাথী আক্তার, যিনি স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি বিউটি পারলারের মালিক। গতকাল বেলা দুইটার দিকে তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাঁকে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাথী আক্তার জানান, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন এবং এ বছর একের পর এক চুরির ঘটনায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত মাসে তাঁর দোকান থেকে এসির তার চুরি হয়েছিল। গতকাল তিনি দেখেন, তাঁর দুটি শোরুমের বৈদ্যুতিক তার এবং একটি শোরুমের এসির তার দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে গেছে। এ সময় আশপাশের আরও কয়েকটি দোকানের তার চুরির কথা উল্লেখ করে তিনি বিএনপি সরকারকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে নিজের হতাশা ব্যক্ত করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা সাথী আক্তারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে দেড় থেকে দুই শ লোক জড়ো হয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওসি বলেন, ‘এ ঘটনায় গতকাল প্রায় ১৫০ জন লোক জড়ো হয়েছিলেন, আজ সেই সংখ্যা বেড়ে ৩০০ হয়ে যেতে পারে এবং সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটতে পারে। ফলে তাঁকে ছেড়ে দিলে এলাকার পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। আবার বড় কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখালে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে।’
বিজ্ঞাপন
ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁর ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘ওই নারী এলাকায় ব্যবসা করেন। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে কিছু কথা বলেছেন। অনেক সময় রাগের মাথায় অনেকে নানা কথা বলে ফেলেন। তাঁর কথাগুলোও সে রকম কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে তিনি বিএনপিকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী হওয়ার কথা বলেছেন। এটিকে দলীয় অবমাননা বা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবতে হবে।’ বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।