ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোটার টানতে নানা প্রতিশ্রুতি
মঙ্গলবার সকাল আটটায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা, ২৯ অক্টোবর ভোট গ্রহণ
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি · ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ:
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিন ছিল গত সোমবার। এদিন সকাল থেকেই প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন; কেউ গ্রামে গ্রামে ছুটেছেন, কেউ পথসভা করেছেন, আবার কেউ জনসভায় তুলে ধরেছেন নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয়ের পাশাপাশি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রতিযোগিতাও ছিল লক্ষণীয়। ২৯ অক্টোবর সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল আটটায় প্রচারণা শেষ হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার বেলা ১১টার দিকে রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের চতুরাখোর গ্রামে নির্বাচনী সভার মধ্য দিয়ে প্রচারণার শেষ দিনের কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ)। পরে ওই ইউনিয়নের দলুয়াপাড়া, শুকানীপাড়া, দেবীডাঙ্গাসহ ৯টি এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে মির্জা ফয়সল আমীন তাঁর বড় ভাই রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সময়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'তাঁর ভাই এমপি থাকার সময় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, দুটি নতুন উপজেলা গঠন এবং চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা, বন্ধ বিমানবন্দর চালু, ইপিজেড স্থাপন এবং গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।' তিনি নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকার নর্দমা ও রাস্তাঘাট পাকা করার এবং খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিকেল চারটায় ভুল্লী উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফয়সল আমীন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ ছাড়া জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন। সভা শেষে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল করেন দলের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা)। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকায় গিয়ে গোপালপুর ও লস্করা গ্রামে গণসংযোগ করেন তিনি। পরে মোলানী, জগন্নাথপুর ও তেলীপাড়া এলাকায়ও গণসংযোগ ও পথসভা করেন এই প্রার্থী। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা ছিল না। ৫ আগস্টের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুটি উপনির্বাচনে আগের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।'
বিজ্ঞাপন
দেলাওয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের লোকজন নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না এবং দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থকদের প্রচারণায় বাধা ও পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'কেউ যাতে ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেদিকে ভোটারদের সতর্ক থাকতে হবে।' তিনি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সোমবার রাত পৌনে সাতটার দিকে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মিছিল করা হয়।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের (হাতপাখা) পক্ষে দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরে গণমিছিল হয়েছে। আর্ট গ্যালারি মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাধারণ পাঠাগার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে দলের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, শেখ মুহাম্মদ আল আমিন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ বক্তব্য দেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আলীম নিজামীর (বটগাছ) পক্ষে মাইকিং শোনা গেলেও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুকের (ডাব) কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে হয়। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল আটটায় প্রচারণা শেষ হবে। এরপর কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না।