ফেসবুক আইডি ডিলিট করার নিয়ম: স্থায়ীভাবে মোছার আগে যা করবেন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
কেউ ফেসবুক ছাড়তে চান সময় বাঁচাতে, কেউ মানসিক চাপ কমাতে, কেউ আবার পুরোনো একটি আইডি বন্ধ করে নতুন করে শুরু করতে। কারণ যা-ই হোক, ফেসবুক আইডি ডিলিট করার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি, কারণ একবার স্থায়ীভাবে মুছে গেলে ছবি, বার্তা, বন্ধুতালিকা কিছুই আর ফেরত পাওয়া যায় না।
বিজ্ঞাপন
নিয়মটি সংক্ষেপে: ফেসবুকের সেটিংসে অ্যাকাউন্টস সেন্টারে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য অংশ থেকে অ্যাকাউন্টের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অপশনে যান, সেখানে ডিঅ্যাক্টিভেশন বা ডিলিশন বেছে নিয়ে ডিলিট অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করুন, পাসওয়ার্ড দিয়ে নিশ্চিত করুন। এরপর ৩০ দিন সময় থাকে মত বদলানোর। এই সময়ে লগইন না করলে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে যায়।
ডিলিট না ডিঅ্যাক্টিভেট: আগে সিদ্ধান্ত নিন
অনেকেই কিছুদিনের জন্য ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে চান, কিন্তু চিরতরে ছাড়তে চান না। তাঁদের জন্য ডিঅ্যাক্টিভেট বা সাময়িক নিষ্ক্রিয় করাই ভালো।
ডিঅ্যাক্টিভেট করলে: আপনার প্রোফাইল অন্যরা দেখতে পাবে না, আপনাকে খুঁজেও পাবে না। কিন্তু সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। যেকোনো সময় আবার লগইন করলেই আইডি আগের মতো ফিরে আসে। ডিঅ্যাক্টিভেট থাকা অবস্থায়ও মেসেঞ্জার ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ডিলিট করলে: ৩০ দিনের অপেক্ষার পর অ্যাকাউন্ট ও তার সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সব তথ্য পুরোপুরি মুছতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে, তবে তখন আর আপনি অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবেন না। আপনার পাঠানো মেসেজ অন্যদের ইনবক্সে থেকে যেতে পারে।
ডিলিটের আগে এই কাজগুলো সেরে নিন
১. তথ্য ডাউনলোড: অ্যাকাউন্টস সেন্টারের আপনার তথ্য ও অনুমতি অংশে তথ্য ডাউনলোডের অপশন আছে। সেখান থেকে ছবি, ভিডিও, পোস্ট, বার্তাসহ পুরো তথ্যের একটি কপি চাইতে পারেন। কপি তৈরি হলে নোটিফিকেশন আসে, তখন ডাউনলোড করুন।
২. অন্য সেবার লগইন দেখুন: অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ফেসবুক দিয়ে লগইন করা থাকে, যেমন গেম, অনলাইন কেনাকাটা বা খবরের অ্যাপ। ফেসবুক মুছে গেলে সেগুলোতে আর ঢুকতে পারবেন না। আগে সেসব সেবায় ইমেইল-পাসওয়ার্ড দিয়ে আলাদা লগইনের ব্যবস্থা করুন।
বিজ্ঞাপন
৩. পেজ ও গ্রুপের দায়িত্ব: আপনি কোনো পেজ বা গ্রুপের একমাত্র অ্যাডমিন হলে অ্যাকাউন্ট মুছলে সেগুলোও পরিচালনাহীন হয়ে পড়বে বা মুছে যাবে। আগে অন্য কাউকে অ্যাডমিন করে দিন।
৪. পরিচিতদের জানান: যাঁদের সঙ্গে শুধু ফেসবুকে যোগাযোগ, তাঁদের ফোন নম্বর বা ইমেইল সংগ্রহ করে রাখুন।
মোবাইল অ্যাপে ফেসবুক কিভাবে ডিলিট করব
১. মেন্যু খুলুন: ফেসবুক অ্যাপে ডান দিকের ওপরে বা নিচে থাকা মেন্যু আইকনে চাপ দিন, তারপর সেটিংস ও প্রাইভেসি থেকে সেটিংসে যান।
বিজ্ঞাপন
২. অ্যাকাউন্টস সেন্টার: সেটিংসের ওপরের অংশে অ্যাকাউন্টস সেন্টার থাকে। সেখানে প্রবেশ করুন।
৩. ব্যক্তিগত তথ্য: অ্যাকাউন্ট সেটিংসের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য বা পার্সোনাল ডিটেইলস অংশে যান।
৪. মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ: অ্যাকাউন্টের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অপশনে চাপ দিয়ে ডিঅ্যাক্টিভেশন বা ডিলিশন বেছে নিন।
৫. অ্যাকাউন্ট বাছাই: একাধিক অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে যেটি মুছবেন সেটি নির্বাচন করুন। এরপর ডিলিট অ্যাকাউন্ট বেছে এগিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
৬. কারণ ও নিশ্চিতকরণ: ফেসবুক কারণ জানতে চাইতে পারে এবং বিকল্প প্রস্তাব দেখাতে পারে। এগিয়ে গিয়ে পাসওয়ার্ড দিন এবং চূড়ান্তভাবে ডিলিট নিশ্চিত করুন।
ফেসবুক মাঝে মাঝে মেন্যুর নাম ও অবস্থান বদলায়। কোনো অপশন খুঁজে না পেলে সেটিংসের সার্চ ঘরে ডিলিট বা ডিঅ্যাক্টিভেট লিখে খুঁজুন। কম্পিউটারের ব্রাউজারেও প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিয়ে সেটিংসে গিয়ে একই অ্যাকাউন্টস সেন্টার পথে কাজটি করা যায়।
আইডি না মুছেও যেভাবে ফেসবুক থেকে দূরে থাকা যায়
অনেকে ফেসবুক মুছতে চান কারণ নোটিফিকেশন আর অবিরাম স্ক্রল সময় খেয়ে ফেলে। এর জন্য সবসময় আইডি মোছার দরকার নেই। ফোনের সেটিংস থেকে ফেসবুকের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন, অ্যাপের ভেতরে সময় ব্যবস্থাপনার অপশন থাকলে প্রতিদিনের সময়সীমা ঠিক করুন। যেসব পেজ ও মানুষের পোস্ট বিরক্ত করে, তাঁদের আনফলো করুন। এতে বন্ধুত্ব থাকে, কিন্তু তাঁদের পোস্ট আর দেখায় না।
বিজ্ঞাপন
কেউ কেউ ফেসবুক মুছতে চান পুরোনো পোস্ট বা ছবির কারণে। সে ক্ষেত্রে অ্যাক্টিভিটি লগ বা নিজের কার্যকলাপের অংশ থেকে পুরোনো পোস্ট একসঙ্গে মুছে বা লুকিয়ে ফেলা যায়। প্রাইভেসি সেটিং থেকে অতীতের সব পোস্ট শুধু বন্ধুদের জন্য সীমিত করার সুবিধাও আছে। অপ্রয়োজনীয় বন্ধুদের তালিকা থেকে সরিয়ে দিলেও ফেসবুকের পরিবেশ অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়।
৩০ দিনের মধ্যে মত বদলালে
ডিলিটের অনুরোধ করার পর ৩০ দিনের মধ্যে আবার লগইন করলে একটি বার্তা আসে, যেখানে ডিলিট বাতিলের অপশন থাকে। সেটি বেছে নিলে অ্যাকাউন্ট আগের মতো ফিরে আসে। তাই সিদ্ধান্তে অটল থাকলে এই সময়ে ভুলেও লগইন করবেন না। ফোনের ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অ্যাপ আনইনস্টল করে রাখুন, কারণ অ্যাপ খুললেই অনেক সময় স্বয়ংক্রিয় লগইন হয়ে ডিলিট বাতিল হয়ে যায়।
পাসওয়ার্ড ছাড়া ফেসবুক আইডি ডিলিট করার নিয়ম আছে কি
বিজ্ঞাপন
নিজের অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে পাসওয়ার্ড লাগবেই, কারণ এটিই প্রমাণ করে আপনি মালিক। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আগে লগইন পাতার পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন অপশন দিয়ে মোবাইল নম্বর বা ইমেইলে কোড এনে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করুন। তারপর উপরের নিয়মে ডিলিট করুন।
অন্যের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার কোনো বৈধ উপায় নেই, এবং কেউ তা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সেটি প্রতারণা বা অবৈধ কাজ। তবে কিছু পরিস্থিতিতে ফেসবুকের নির্ধারিত পথ আছে। কেউ আপনার নামে ভুয়া আইডি খুললে সেই প্রোফাইলে গিয়ে রিপোর্ট অপশনে ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগ করুন। পরিবারের কেউ মারা গেলে ফেসবুকের সহায়তা কেন্দ্রের নির্ধারিত ফরমে মৃত্যুর প্রমাণসহ অ্যাকাউন্টটিকে স্মরণীয় করার বা মুছে ফেলার অনুরোধ জানাতে পারেন নিকটাত্মীয়রা। আর আইডি হ্যাক হলে আগে উদ্ধারের চেষ্টা করুন, তারপর চাইলে মুছে ফেলুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ফেসবুক ডিলিট করলে কি মেসেঞ্জারও মুছে যায়?
বিজ্ঞাপন
হ্যাঁ, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছলে সেই অ্যাকাউন্টের মেসেঞ্জারও আর ব্যবহার করা যায় না।
ডিলিট করা আইডির নামে কেউ কি আবার আইডি খুলতে পারবে?
যে কেউ নিজের নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, কিন্তু আপনার মুছে ফেলা অ্যাকাউন্টের তথ্য বা ছবি ফিরে পাবেন না।
ফেসবুক ডিলিট করার উপায় কি কম্পিউটারে আলাদা?
বিজ্ঞাপন
না, পথ প্রায় একই। সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্টস সেন্টারে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য অংশের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অপশন ব্যবহার করুন।
ডিলিটের পর একই মোবাইল নম্বর দিয়ে কি নতুন আইডি খোলা যাবে?
সাধারণত পুরোনো অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি মুছে যাওয়ার পর সেই নম্বর দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
ডিলিটের অনুরোধের পর বন্ধুরা কী দেখতে পান?
বিজ্ঞাপন
অপেক্ষার সময়েও আপনার প্রোফাইল অন্যদের কাছে আর দৃশ্যমান থাকে না, সার্চেও আসে না। পুরোনো কথোপকথনে আপনার নাম সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে দেখাতে পারে।
ইনস্টাগ্রাম যুক্ত থাকলে কি সেটিও মুছে যাবে?
অ্যাকাউন্টস সেন্টারে একাধিক অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে ডিলিটের সময় কোনটি মুছবেন তা আলাদা করে বেছে নিতে হয়। শুধু ফেসবুক বাছলে ইনস্টাগ্রাম অক্ষত থাকে।