বিকাশে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নিয়ম: অ্যাপ ও ডায়াল কোডে পরিশোধ
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
একসময় বিদ্যুৎ বিল দিতে ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো, অনেক সময় অর্ধেক দিন চলে যেত। এখন সেই কাজ হয় হাতের মোবাইলে, এক মিনিটে। বিকাশে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নিয়ম জানা থাকলে বাড়ির বিল, গ্রামের বাড়ির মা-বাবার বিল, এমনকি দোকানের বিলও যেকোনো জায়গা থেকে পরিশোধ করা যায়।
বিজ্ঞাপন
নিয়মটি সংক্ষেপে এমন: বিকাশ অ্যাপে পে বিল অপশনে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বেছে নিন, তালিকা থেকে নিজের বিতরণ সংস্থা ও পোস্টপেইড বা প্রিপেইড নির্বাচন করুন, হিসাব নম্বর দিন, পর্দায় বিলের পরিমাণ দেখে পিন দিয়ে নিশ্চিত করুন। স্মার্টফোন না থাকলে *২৪৭# ডায়াল করে মেন্যুর বিল পরিশোধ অপশন থেকেও একই কাজ করা যায়। প্রতিটি বিল পরিশোধের পর ফিরতি এসএমএস ও অ্যাপে রসিদ পাওয়া যায়।
বিল দেওয়ার আগে দুটি তথ্য জেনে নিন
আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো নাকি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তা বিলের কাগজ বা মিটারের গায়ে লেখা থাকে। সঙ্গে দেখুন আপনার মিটার পোস্টপেইড নাকি প্রিপেইড। মাস শেষে বিল এলে পোস্টপেইড, আগে টাকা ভরে ব্যবহার করলে প্রিপেইড।
হিসাব নম্বর বা মিটার নম্বর: পোস্টপেইড গ্রাহকের বিলের কাগজে হিসাব নম্বর থাকে। পল্লী বিদ্যুতের বিলে মোবাইলে বিল দেওয়ার জন্য আলাদা এসএমএস হিসাব নম্বর লেখা থাকে, সেটিই ব্যবহার করতে হয়। প্রিপেইড গ্রাহকের লাগে মিটার নম্বর বা গ্রাহক নম্বর, যা মিটারের কার্ডে বা মিটারের গায়ে পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
ভুল সংস্থা বা ভুল নম্বর দিলে বিল দেখাবে না, অথবা অন্যের হিসাবে টাকা জমা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রথমবার নম্বরটি সাবধানে মিলিয়ে দিন।
বিকাশ অ্যাপে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নিয়ম
১. অ্যাপে ঢুকুন: বিকাশ অ্যাপ খুলে পিন দিয়ে লগইন করুন।
২. পে বিল বেছে নিন: মূল পাতায় পে বিল বা বিল পরিশোধের আইকনে চাপ দিন। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বিদ্যুৎ বেছে নিন।
বিজ্ঞাপন
৩. সংস্থা নির্বাচন: তালিকা থেকে আপনার বিতরণ সংস্থা ও পোস্টপেইড বা প্রিপেইড অপশন বাছুন। অনেক সময় একই সংস্থার দুটি আলাদা নাম তালিকায় থাকে, সাবধানে দেখুন।
৪. হিসাব নম্বর দিন: নির্ধারিত ঘরে হিসাব নম্বর লিখুন। কিছু সংস্থার ক্ষেত্রে বিলের মাসও বাছাই করতে হয়। চাইলে এই বিলটি সংরক্ষণের অপশন চালু করুন, পরের মাসে আর নম্বর লিখতে হবে না।
৫. বিল মিলিয়ে দেখুন: পরের পাতায় বকেয়া বিলের পরিমাণ, শেষ তারিখ এবং কখনো গ্রাহকের নাম দেখাবে। প্রযোজ্য হলে বিল পরিশোধের চার্জও এখানেই দেখা যায়। সব মিলে গেলে এগিয়ে যান।
৬. পিন দিয়ে নিশ্চিত করুন: বিকাশ পিন দিন এবং পর্দার নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করার বোতাম চেপে ধরে রাখুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সফল লেনদেনের বার্তা আসবে।
বিজ্ঞাপন
সফল হলে অ্যাপে একটি রসিদ দেখায়, যাতে ট্রানজেকশন আইডি থাকে। চাইলে রসিদটি স্ক্রিনশট বা ছবি হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারেন।
*২৪৭# ডায়াল করে বিদ্যুৎ বিল কিভাবে দেয়
বাটন ফোন বা ইন্টারনেট না থাকলে ডায়াল কোডই ভরসা। বিকাশ একাউন্টের নম্বর থেকে *২৪৭# ডায়াল করলে একটি মেন্যু আসবে। সেখানে বিল পরিশোধের অপশনের পাশের নম্বরটি লিখে পাঠান। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগ ও আপনার সংস্থা বেছে নিন। স্ক্রিনের নির্দেশনা অনুযায়ী হিসাব নম্বর, প্রয়োজনে বিলের মাস ও পরিমাণ দিন, শেষে পিন দিয়ে নিশ্চিত করুন।
মেন্যুর অপশনগুলোর ক্রম সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, তাই প্রতিবার পর্দার লেখা পড়ে তারপর নম্বর চাপুন। প্রতিটি ধাপে সময় সীমিত থাকে, দেরি করলে সেশন বন্ধ হয়ে যায়। তাই হিসাব নম্বর আগেই একটি কাগজে লিখে হাতের কাছে রাখুন।
বিজ্ঞাপন
প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ: টোকেন বসানোর নিয়ম
প্রিপেইড গ্রাহকেরা একই পে বিল অংশ থেকে প্রিপেইড অপশন বেছে মিটার নম্বর ও রিচার্জের পরিমাণ দেন। টাকা পরিশোধের পর এসএমএস ও অ্যাপে একটি টোকেন নম্বর আসে, যা সাধারণত ২০ সংখ্যার। এবার মিটারের কি-প্যাডে টোকেনটি ধীরে ধীরে চাপুন এবং শেষে নিশ্চিত করার বোতাম চাপুন। মিটার গ্রহণ করলে পর্দায় নতুন ব্যালেন্স দেখাবে।
ভুল সংখ্যা চাপলে মিটার টোকেন প্রত্যাখ্যান করে। তখন মুছে আবার চাপুন। বারবার প্রত্যাখ্যান হলে টোকেনের ছবি ও ট্রানজেকশন আইডি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, রিচার্জের পুরো টাকা মিটারে যোগ নাও হতে পারে। ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া বা আগের ধার মাস শুরুতে কেটে নেওয়া হয়, এটি স্বাভাবিক।
অন্যের বিল বা গ্রামের বাড়ির বিল দেওয়ার সুবিধা
বিজ্ঞাপন
শহরে থাকা সন্তান গ্রামে মা-বাবার বিদ্যুৎ বিল নিজের বিকাশ থেকেই দিতে পারেন। বিল পরিশোধের জন্য একাউন্টের মালিক ও বিদ্যুৎ গ্রাহক একই ব্যক্তি হওয়ার দরকার নেই, শুধু হিসাব নম্বর জানতে হয়। একাধিক বাড়ির বিল দিলে প্রতিটি সংরক্ষণ করার সময় আলাদা নাম দিন, যেমন গ্রামের বাড়ি বা দোকান। এতে ভুল হিসাবে বিল দেওয়ার আশঙ্কা কমে।
অনেকে প্রতি মাসে শেষ তারিখ ভুলে যান। অ্যাপে বিল মনে করিয়ে দেওয়া বা স্বয়ংক্রিয় পরিশোধের মতো সুবিধা চালু থাকলে তা ব্যবহার করতে পারেন। না থাকলে ফোনের ক্যালেন্ডারে প্রতি মাসের একটি তারিখে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন।
বিল দিয়েছি, কিন্তু জমা দেখাচ্ছে না
প্রথমে দেখুন সফল লেনদেনের এসএমএস এসেছে কি না এবং বিকাশ অ্যাপের লেনদেন তালিকায় বিলটি আছে কি না। সফল দেখালে টাকা বিদ্যুৎ সংস্থার কাছে পৌঁছেছে, শুধু তাদের সিস্টেমে হালনাগাদ হতে সময় লাগছে। এক-দুই দিন অপেক্ষা করুন।
বিজ্ঞাপন
এরপরও পরের বিলে বকেয়া দেখালে ট্রানজেকশন আইডি, তারিখ ও পরিমাণসহ রসিদ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যান। প্রয়োজনে বিকাশের গ্রাহকসেবায়ও জানান। ভুল হিসাব নম্বরে বিল চলে গেলে বিদ্যুৎ অফিসে লিখিতভাবে জানাতে হয়, তারা যাচাই করে সমন্বয়ের ব্যবস্থা নেয়। তবে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, তাই শুরুতেই সতর্কতা সবচেয়ে ভালো সমাধান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিকাশে বিদ্যুৎ বিল দিলে কি চার্জ কাটে?
কিছু বিদ্যুৎ সংস্থার বিলে সামান্য চার্জ থাকে, কিছুতে থাকে না। পিন দেওয়ার আগের পাতায় চার্জের পরিমাণ দেখায়, সেখান থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বিজ্ঞাপন
শেষ তারিখ পেরিয়ে গেলে কি বিকাশে বিল দেওয়া যায়?
সাধারণত বিলম্ব মাশুলসহ বকেয়া বিল পরিশোধ করা যায়। তবে অনেক দিনের বকেয়া বা সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর্যায়ে গেলে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নিয়ম কি নগদ বা রকেটেও একই রকম?
প্রায় একই। প্রতিটি মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপে বিল পরিশোধের অংশ আছে, সেখানে সংস্থা বেছে হিসাব নম্বর দিয়ে বিল দেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
প্রিপেইড টোকেনের এসএমএস মুছে ফেলেছি, কী করব?
অ্যাপের লেনদেন ইতিহাসে ওই লেনদেনে গেলে সাধারণত টোকেন নম্বর দেখা যায়। না পেলে ট্রানজেকশন আইডি নিয়ে গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন।
অর্ধেক বিল কি দেওয়া যায়?
পোস্টপেইড বিল সাধারণত পুরো অঙ্কেই পরিশোধ করতে হয়। কিস্তিতে দেওয়ার প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করে অনুমতি নিতে হয়।
বিজ্ঞাপন
ব্যালেন্স কম থাকলে কি বিল পরিশোধ আংশিক হয়ে যাবে?
না। একাউন্টে বিলের পুরো অঙ্ক ও চার্জ মিলিয়ে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে লেনদেনটি সম্পন্ন হয় না, কোনো টাকাও কাটে না। আগে ক্যাশ ইন বা অ্যাড মানি করে তারপর আবার চেষ্টা করুন।